১৪ দলের চিঠির জবাব দিলেন মেনন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সম্প্রতি এক মন্তব্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ১৪ দলের চিঠির জবাবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বরিশালে দেওয়া ঐ বক্তব্যে ‘অতিশয় উক্তি’ ঘটায় এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ১৪ দলের যে বিশ্লেষণ তাতে তিনি একমত। সংশ্লিষ্ট সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গতকাল রবিবার রাতে ১৪ দলের সমন্বয়ক, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিমের কাছে রাশেদ খান মেননের পক্ষ থেকে চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ১৪ দলের জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৪ দলের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে রাশেদ খান মেননের ঐ বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আপনার (রাশেদ খান মেনন) ঐ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ধারার যে অগ্রযাত্রা চলছে, সেই সময়ে আপনার এই অসত্য বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনার ঐ বক্তব্য ১৪ দলীয় জোটের নির্বাচন সংক্রান্ত ও বিশ্লেষণের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই আপনার নির্বাচন সংক্রান্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।’

এদিকে রাশেদ খান মেননের চিঠির জবাব নিয়ে করণীয় ঠিক করতে আজ সোমবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ধানমন্ডিতে মোহাম্মদ নাসিমের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করবেন। প্রসঙ্গত, গত ১৯ অক্টোবর বরিশাল নগরীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেছিলেন, ‘আমি নিজেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তারপরেও আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি—এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও ভোট দিতে পারে না, উপজেলায়ও পারে না। তাহলে শেখ হাসিনা আপনি-আমি মিলে যে ভোটের জন্য লড়াই করেছি, ঘেরাও করেছি আজিজ কমিশনকে। আমরা ১ কোটি ১০ লাখ ভুয়া ভোটার-তালিকা ছিড়ে ফেলার জন্য নির্বাচন বর্জন করেছিলাম নমিনেশন জমা দেওয়ার পরেও। আজকে কেন আমার দেশের মানুষ, ইউনিয়ন পরিষদের মানুষ, আমার উপজেলার মানুষ, আমার জেলার মানুষ, আমার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না?’