জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি ভারত সফর এবং সেখানে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পর্কে কিছু বিরূপ আলোচনা চোখে পড়েছে। এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি এবং উল্লেখিত চুক্তিসমূহের তালিকা দেখেছি। সেখানে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু চোখে পড়েনি। প্রধানমন্ত্রীর দেশপ্রেমের প্রতি আমরা আস্থাশীল।’ গতকাল রবিবার তিনি তার বনানীর কার্যালয়ে জাপার সাংগঠনিক টিমের যৌথ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা আছে। সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সুশৃঙ্খলভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। যাতে করে শক্তিশালী সংগঠনের মাধ্যমে জনপ্রত্যাশিত রাজনীতি দিয়ে আমরা অধিকতর জনসমর্থন ও আস্থা লাভ করতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘দেশে এখন দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান চলছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী পদক্ষেপকে অভিনন্দন জানাই। তিনি নিজ দলের মানুষকেও ছাড় দেননি। আমরা আশা করি এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে।’
দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসতে থাকলেও তৃণমূলে এখনো বিভক্তি রয়ে গেছে জানিয়ে জাপার চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিলের আগে আমরা ১০টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দিয়েছিলাম। আমরা তাদের কাছ থেকে তৃণমূলের নানা মতভেদ ও দ্বন্দ্বের কথা জানতে পেরেছি।’
সভায় জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘৩০০ আসনের আশা আমরা এখন আর করি না। যেসব আসনে আমাদের প্রার্থীর ৮০, ৫০ কিংবা ৩০ ভাগও জেতার সম্ভাবনা থাকবে, আমরা সেসব আসন থেকে প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনতে পারব।’ তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের বাকি আরো চার বছর। দেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে জাপা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর গঠন করা হয়েছিল জাপার বিভাগীয় টিমগুলো। পরে প্রেসিডিয়াম কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়, কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি, পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের জন্য ১০ সদস্যবিশিষ্ট আরো একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিভিন্ন দেশে অঙ্গসংগঠনগুলোর জন্য করা হয় আন্তর্জাতিক টিম। এই কমিটি আট বিভাগের সাংগঠনিক টিমের নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা করে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন পেশ এবং সুপারিশ দেয় জাপা চেয়ারম্যানকে। গতকালের সভায় সেই প্রতিবেদন নিয়ে পর্যালোচনা হয়। তবে এই সভায় আসেননি জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, গোলাম কিবরিয়া টিপু, মুজিবুল হক চুন্নু, সাহিদুর রহমান টেপা, সুনীল শুভ রায়, ফখরুল ইমাম, লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, এ টি ইউ তাজ রহমান প্রমুখ।