জাহাজ পার্কিংয়ে ছেয়ে গেছে কর্ণফুলী

নৌচলাচলে প্রতিবন্ধকতা

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

কর্ণফুলী নদীতে পরিকল্পিতভাবে নিয়ম মেনে জাহাজ পার্কিং করা হচ্ছে না। যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা হচ্ছে জাহাজ। যে কারণে নদীতে নিরাপদে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত নৌযানগুলোও প্রতিনিয়ত এ কারণে সমস্যায় পড়ছে। তাদের অনেক পথ ঘুরে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে।

কর্ণফুলীতে জাহাজ পার্কিংয়ে থাকার কথা মোহনার বাইরে। আর এখন ছোটো-বড়ো হাজারো জাহাজ কর্ণফুলী নদীর একেবারে ভেতরে এসে দিনে-রাতে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। ১৫ নম্বর ঘাট থেকে শুরু কর্ণফুলী সেতুর কয়েক কিলোমিটার উজানে পর্যন্ত জাহাজ পার্কিং করা হচ্ছে। জাহাজ পার্কিংয়ে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। বাংলাবাজার ঘাট সাম্পান ও টেম্পো মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, যততত্র জাহাজ নোঙরের কারণে যাত্রী পারাপারে নানা সমস্যা হচ্ছে। যাত্রী পারাপারের নির্দিষ্ট রুটটি ক্লিয়ার রাখার জন্য আমরা লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা কর্ণপাত করছে না।’

মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য নিয়ে প্রতিদিন কয়েকশত লাইটারেজ জাহাজ কর্ণফুলী নদীর মাঝিরঘাট এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ঘাটগুলোতে পণ্য খালাস করে থাকে। দেখা গেছে পণ্য খালাসের জন্য জাহাজগুলোকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। আবার পণ্য খালাস করে জাহাজগুলোকে নদীর মাঝখানে নিয়ে যত্রতত্রভাবে পার্কিং করা হচ্ছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘জাহাজ পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। এই সমস্যা সমাধানে সরকারিভাবে জাহাজ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, কর্ণফুলী নদীতে যত্রতত্র জাহাজ নোঙরের কারণে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। কর্ণফুলীতে নৌযান চলাচলের রুট পরিষ্কার রাখার জন্য করণীয় বিষয়ে বন্দরের মেরিন বিভাগ কাজ করছে। অলস জাহাজ কর্ণফুলী সেতুর উজানে অথবা আউটারে রাখার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।’

লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিকরাও কর্ণফুলী নদীতে যত্রতত্র জাহাজ নোঙর করার বিপক্ষে। এ ব্যাপারে লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি নবী আলম মাস্টার ইত্তেফাককে বলেন, কাজটা বন্দর কর্তৃপক্ষের হলেও তারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আগে জাহাজ কম ছিল। এখন লাইটারেজ জাহাজ কয়েক গুণ বেড়েছে। জাহাজ রাখবে কোথায়। যার কারণে কর্ণফুলী নদী ছেয়ে গেছে। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম বে-টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে সাগরে অথবা নেভাল একাডেমির পশ্চিম পাশে জাহাজ নোঙরের ব্যবস্থা করতে। এছাড়া পার্কি সৈকতের দক্ষিণ পাশে একটি খালের মুখ সংস্কার করে দিলে এখানেও জাহাজ নোঙর করা যেত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার আরিফুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এটি নিরাপদ নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কর্ণফুলী নদীর বাইরে পার্কি এলাকার পাশে সাঙ্গু নদীর চ্যানেলে লাইটারেজ জাহাজের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে।’