মহিউদ্দিন-পত্নীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ায় চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামের প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ও মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন নেতাকে মঞ্চ থেকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নামিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ হয়েছে। মহিউদ্দিন অনুসারীরা এ ঘটনায় চরম ক্ষিপ্ত। হাসিনা মহিউদ্দিন উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মা।

ঘটনাটি জানতেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের         সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রবিবারের ঐ ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রামে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘ঘটনাটি জানলে মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হিসেবে আমি তাকে সম্মানটা দিতাম।’

ঘটনা ব্যাখ্যা করে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, কারা মঞ্চে থাকবেন সেটা আগেই কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত হয়েছিল। সে অনুযায়ী হাসিনা মহিউদ্দিনকে নেমে যেতে বলা হয়েছিল। তবে বিপরীত বক্তব্য পাওয়া গেল ওবায়দুল কাদেরের কথায়। চট্টগ্রামে থাকাকালে এ ঘটনার কিছুই জানতেন না দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সড়ক ভবনে একটা প্রোগ্রাম ছিল, সেখান থেকে আমি প্রতিনিধি সম্মেলনে যখন যোগ দিয়েছি আনুমানিক সাড়ে ১২টায়। এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয় আমাকে কেউ জানায়নি’। ঢাকার পথে রওনা হওয়ার সময় ঘটনাটি জানতে পারেন ওবায়দুল কাদের, তখন তিনি নাছিরের কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়রকে জিজ্ঞাসা করেছি, তার যে বক্তব্য, সেটা হচ্ছে—ওখানে হোস্ট হিসেবে তিনটি জেলা, মহানগর এবং চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ। এই তিন জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকেরা বৈঠক করে মঞ্চে কারা কারা বসবেন এবং কোন ক্যাটাগরি বসবে, সেটা নির্ধারণ করেছেন। সেই ক্যাটাগরিতে তিনি (হাসিনা) ছিলেন না।

মঞ্চ থেকে হাসিনা মহিউদ্দিন ছাড়াও নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম এবং কৃষি সম্পাদক আহমদুর রহমান সিদ্দিকীকে নামিয়ে দেন নাছির। সে সময় নগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর এবং নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এরপর রাতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘হাসিনা মহিউদ্দিন আসলে মঞ্চে থাকা নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী উঠে দাঁড়িয়ে তাকে মঞ্চে ডাকেন। এ সময় চন্দন ধর এগিয়ে গিয়ে মঞ্চে উঠতে হাসিনা মহিউদ্দিনকে সহযোগিতা করেন। এ সময় জ্যেষ্ঠ নেতা আহমদুর রহমান সিদ্দিকী ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামও একসঙ্গে মঞ্চে উঠেন। এর ১৫ মিনিট পর নাছির ভাইকে তাদের কিছু বলতে দেখি। এরপর তারা মঞ্চ থেকে নেমে যান এবং পাশের সারিবদ্ধ চেয়ারে বসেন।

তখন সভা চলাকালেই আ জ ম নাছিরের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চান চন্দন ধর ও মহিউদ্দিন বাচ্চু। মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘ নাছির ভাই বলেন, নির্ধারিত ব্যক্তিরাই মঞ্চে বসেছেন। উনি তো (হাসিনা মহিউদ্দিন) অঙ্গ সংগঠনের। তুমিও অঙ্গ সংগঠনের, তুমি তো নিচেই বসেছ। জবাবে আমি বলি, উনি আর আমি এক না। উনি মহিউদ্দিন ভাইয়ের সহধর্মিণী। তাদের পরিবার আমাদের আবেগ। যা হয়েছে সেটা শিষ্টাচার সম্পন্ন নয়। চন্দন দাদাও একই আপত্তি জানিয়েছেন’।

ঘটনার বিষয়ে বর্ষীয়ান নেতা আহমদুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘রাজনীতি জটিল হয়ে গেছে। সিনিয়রদের মূল্যায়ন শুধু নেত্রীই করেন। আর কোথাও তা আছে?

এদিকে ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহিউদ্দিনের অনুসারী নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। রাতে নগরীর গোলপাহাড়, জিইসি, প্রবর্তক এলাকায় মহিউদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে ‘মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের প্রতি আঘাত’ দাবি করে বিক্ষোভ করেছেন।

বাধার মুখে স্মরণসভায় যেতে পারলেন না মেয়র নাছির

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, চট্টগ্রামে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় একটি স্মরণসভায় মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের বাধার মুখে অনুষ্ঠানে যেতে পারলেন না মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জানে আলম দোভাষের স্মরণে ঐ সভার আয়োজন করা হয়েছিল কাজীর দেউরির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে। ঐ সভার ভেতরে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিল মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। মঞ্চে আওয়ামী লীগের অন্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মহিউদ্দিন-পত্নী হাসিনা মহিউদ্দিন।

অন্যদিকে কনভেনশন সেন্টারের বাইরে আ জ ম নাছির উদ্দীনের সমর্থকরা এসে জড়ো হলে স্মরণসভাস্থলে পালটাপালটি স্লোগানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ এই পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় উভয় পক্ষের মধ্যখানে অবস্থান নেয়।