একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের ধানমন্ডির বাসায় ১৪ দলের বৈঠকে এ সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়।
বৈঠক শেষে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে ১৪ দল যে চিঠি দিয়েছিল, তিনি তার জবাব দিয়েছেন। সেখানে মেনন বলেছেন, তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে ১৪ দলের যে বিশ্লেষণ ও মতামত, তার সঙ্গে তিনি ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তারপরও তার বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ফলে এ বিষয় নিয়ে সব বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে। আদর্শিক জোট ১৪ দল বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে।’
গত ১৯ অক্টোবর বরিশালে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে রাশেদ খান মেনন একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য দেন তার ব্যাখা চেয়ে গত ২৪ অক্টোবর রাতে রাশেদ খান মেননের কাছে জোটের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। রবিবার রাতে মেনন তার জবাব দেন। ১৪ দলের মুখপাত্র নাসিমের কাছে মেননের পক্ষে দলটির পলিটব্যুরোর সদস্য কামরুল আহসান এই চিঠি পৌঁছে দেন। সূত্র জানায়, চিঠি হাতে পেয়ে রবিবার রাতেই তা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দেন নাসিম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৪ দলের বৈঠকে মেননের চিঠির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী গতকাল ১৪ দলের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠক চলাকালে নেতাদের মতামতের বিষয়টি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। এক্ষেত্রে বৈঠকের মধ্যে একাধিকবার মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে ফোনে ওবায়দুল কাদেরের কথা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়েই ১৪ দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়া হয় গণমাধ্যমে।
এর আগে রাশেদ খান মেননের কাছে পাঠানো ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আপনার ঐ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ধারার যে অগ্রযাত্রা চলছে, সেই সময়ে আপনার এই অসত্য বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনার ঐ বক্তব্য ১৪ দলীয় জোটের নির্বাচনসংক্রান্ত ও বিশ্লেষণের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই আপনার বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।’
গতকাল সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসীত বরণ রায়, বাসদের রেজাউর রশিদ খান, তরিকত ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।