স্টকারওয়্যার এমন একধরনের নজরদারি সফটওয়্যার? যার দ্বারা যে কারো অনলাইন কার্যকলাপ খুবই সহজে অনুসরণ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সব মেসেজ পড়া সম্ভব, ব্যবহূত কম্পিউটারের স্ক্রিনের রেকর্ড রাখা সম্ভব, জিপিএস অবস্থান ট্র্যাকিং করা সম্ভব। এই সফটওয়্যারের সবচেয়ে খারাপ দিক হলো এটির ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। এই সফটওয়্যারের অপব্যবহারে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি।
স্টকওয়্যার এমন একটি শক্তিশালী নজরদারির সফটওয়্যার প্রোগ্রাম, যা সাধারণ প্রকাশ্যে অনলাইনে কিনতে পাওয়া যায়। সাধারণত সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীর ওপর নজরদারির জন্যই সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয় এই সফটওয়্যার। এতে করে যে কারো ব্যক্তিগত তথ্য চলে যায় অন্যের হাতে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ক্যাসপারস্কির মতে, এ ধরনের গুপ্তচরমূলক সফটওয়্যার নিজেদের ডিভাইসে খুঁজে পাওয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত এক বছরে কমপক্ষে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
ক্যাসপারস্কির গবেষকরা বলছেন, তাদের সুরক্ষাপ্রযুক্তি এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৩২টি ডিভাইসে ‘স্টকওয়্যার’ শনাক্ত করতে পেরেছে। সংস্থাটির প্রধান সুরক্ষা গবেষক ডেভিড এম সংখ্যাটিকে একটি বিশাল ‘হিমবাহের চূড়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বেশির ভাগ মানুষ নিয়মিত তাদের ল্যাপটপ বা ডেক্সটপের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। কিন্তু তাদের মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে ততটা সাবধান হয় না। ক্যাসপারস্কির অনুসন্ধানে সবচেয়ে বেশি স্টকওয়্যার ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে রাশিয়াতে। তালিকার পরের দেশগুলো হলো-ভারত, ব্রাজিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর জার্মানি। যুক্তরাজ্যের অবস্থান অষ্টম। অন্য একটি সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা ব্যবহারিক পদক্ষেপ নিতে পারছে সেই সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যারা মনে করছেন যে তাদের ওপর নজরদারি বা গুপ্তচরবৃত্তি করা হচ্ছে।
জ্যাক মুর নামের একজন বিশেষজ্ঞের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য যে অ্যাপটি ব্যবহার করা হয় না সেটি ডিলিট করে দেওয়াই সবচেয়ে সহজ উপায়। ব্রিটেনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস বলছে, স্টকওয়্যার ব্যবহার বন্ধের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকলেও এই সফটওয়্যারের কারণে সৃষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা হয়রানি বন্ধে আইন রয়েছে।—বিবিসি