ফেনী জেলা কারাগারে পৃথক কনডেম সেল না থাকায় নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলে পাঠাতে কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফেনী জেলা কারা কর্তৃপক্ষ এ চিঠি পাঠিয়েছে। গতকাল সোমবার ফেনী জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রফিকুল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ফেনী জেলা কারাগারে থাকা নুসরাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি যেসব সেলে রয়েছে, সেসব সেলে থাকা অন্য আসামিদেরও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ফেনী কারাগারের জেলার দিদারুল আলম বলেন, ফেনী জেলা কারাগারে কোনো কনডেম সেল নেই। এজন্য নুসরাত হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর জন্য আইজি প্রিজনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারণ, কুমিল্লা কারাগারে অনেকগুলো কনডেম সেল রয়েছে। সেসব কনডেম সেল ফাঁকা থাকলে আসামিদের সেখানে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে ফাঁকা না থাকলে কাশিমপুরসহ যেসব কেন্দ্রীয় কারাগারে কনডেম সেল ফাঁকা রয়েছে, সেখানে আসামিদের পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন এবং প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি মো. রুহুল আমিন (৫৫), মহি উদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।