শুকনো মৌসুমের শুরুতেই ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে উঠায় লঞ্চ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ডুবোচর ড্রেজিং না করায় প্রতিনিয়ত হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বরিশাল নৌবন্দরেই চর পড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা দেরি হয়েছে বিলাসবহুল লঞ্চ মানামীর। মানামী লঞ্চের মাস্টার আসাদুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, চর পড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে রবিবার রাতে আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে রওয়ানা হতে হয়েছে।
একাধিক লঞ্চের মাস্টার জানান, বরিশাল নৌ-বন্দরের পাশাপাশি নলবুনিয়া পন্টুন, মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া, মল্লিকপুর ও কালীগঞ্জ, বামনার চর থেকে লাল খয়রাবাদ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার, চাঁদপুরের শেওড়াবয়া বা মাঝের চর চ্যানেল, ভাষানচরসহ এসব এলাকার পার্শ্ববর্তী স্থানে অসংখ্য ডুবোচর রয়েছে। ভাটার সময় পানি কমে গেলে আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, ফলে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। এরই মধ্যে কালীগঞ্জে লাল ও গ্রিন বয়ার মাঝ বরাবর চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাষানচরের মাঝ বরাবর পূর্বে বয়া থাকলেও বর্তমানে তা নেই। শ্যাওড়া এলাকায় বয়া না থাকায় সংকট আরো বেড়েছে।
গত বছর ৬ আগস্ট থেকে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের মিয়ারচর এলাকায় নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করে নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এ রুট দিয়ে চলাচলরত ঢাকা-বরিশাল রুটের নৌযানসহ অন্য নৌযানগুলোকে মেহেন্দীগঞ্জের কালীগঞ্জ হয়ে মেঘনায় নদী পাড়ি দিতে হয়। তবে বরিশালের হিজলার মিয়ারচর থেকে নৌযানগুলো চলাচল করলে প্রায় ১০ কিলোমিটার নৌপথ কমে যায় ও সময় বাঁচে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
নৌযানের চালক ও যাত্রীরা জানান, আগামী কয়েকমাস নদ-নদীর পানি অব্যাহতভাবে কমতে থাকবে। তাই মানসম্পন্ন ড্রেজিং করার জন্য এখনই উদ্যোগ না নেওয়া হলে ঘটবে বিপর্যয়। মাস্টাররা অভিযোগ করেন ডুবোচরের স্থানগুলোতে বয়া থাকলেও তাতে বাতি জ্বলে না আবার বিকন বাতিও জ্বলে না। বয়া-বিকন বাতি না থাকায় এ ডুবোচরগুলোতে ধারণা করেই লঞ্চ চালাতে হয়। এছাড়া অধিকাংশ চ্যানেল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখানেও কোনো বয়া না থাকায় নৌযানগুলো আটকা পড়ে।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল নদীবন্দরের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, শুকনো মৌসুমে নাব্য সংকটের দেখা দেয় তাই জোয়ার-ভাটা দেখে বড়ো নৌযানগুলোকে চলাচল করতে হয়। বরিশাল নৌবন্দরের কিছু অংশসহ মিয়ারচর, কালীগঞ্জ এলাকায় নাব্য সংকট রয়েছে। বিষয়টি তাদের দপ্তরের ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে। বুধবার নৌযান মালিক, মাস্টার, ড্রাইভার, সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল যুগ্ম-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, হাইড্রোগ্রাফিক ও ম্যানুয়াল জরিপ করে নাব্য সংকট নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শিগিগরই ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে। বিআইডব্লিউটিএর ৫৬টিসহ পায়রা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের কিছু বয়া রয়েছে। কিছু বয়া জেলেরা নষ্ট করে ফেলেছে। রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে