পাঁচ বছর আগের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে গত বছর। ঐ মামলায় আসামি করা হয় কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমার ইউনিয়নের বারো বছরের এক শিশুকে। ঘটনা সংঘটনের সময় তার বয়স ছিলো সাত বছর। গতকাল সোমবার মানবপাচার মামলায় ঐ শিশু হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ তাকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।
২০১৮ সালের ১৪ অক্টোবর কক্সবাজারের রামুর হাজিপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৪১) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে একটি পিটিশন মামলা করেন। ঐ মামলায় রামুর চাকমারকুল এলাকার ঐ শিশুসহ ছয় জনকে আসামি করা হয়। মামলায় ২০১৪ সালের ২০ জুন ও ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরে সংঘটিত দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিনা খরচে, ভালো বেতনে মালয়েশিয়ায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৪ সালে ২১ জুন বাদী ও অন্যান্য ভিকটিমকে কক্সবাজারের লাবনী চর থেকে জাহাজে তুলে দেয় আসামিরা। পরে থাইল্যান্ডে পৌঁছালে দালাল চক্রের লোকজন মুক্তিপণ দাবি করে। মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছ থেকে এই আসামি (শিশু), মামলার প্রধান ও দ্বিতীয় আসামি ২ লাখ টাকা নেয়। পরবর্তীতে আসামিদের আরো ১ লাখ টাকা দেওয়ার পর মালয়েশিয়া পৌঁছান মামলার বাদী নুরুল ইসলাম। পরে সেদেশে জেলখেটে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপরই তিনি মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান ঐ শিশু। আদালতে তার পক্ষে আইনজীবী জামান আক্তার বুলবুল ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন দেয়।
আইনজীবী জামান আকতার বুলবুল বলেন, মামলায় শিশুটির বয়স দেখানো হয়েছে ২২ বছর। গত ১৪ অক্টোবর এ মামলায় রামু থানার পুলিশ গ্রেফতার করতে শিশুটির বাড়িতে যায়। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করে ফিরে আসে।