চকরিয়ায় ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে লালব্রিজ এলাকার ছড়াখালে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। পাশাপাশি চলাচল দুর্ভোগে পড়েছে ঐ এলাকার অন্তত ১৫ হাজার বাসিন্দা।

অভিযোগে স্থানীয় মিনহাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ হান্নান, নুরুল হক দিলু, মো. মিরান, মোবারক, নুরুল কবির, মিজানুর রহমানসহ আরো কয়েকজন ভুক্তভোগী দাবি করেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নেওয়া তাদের হারবাং ছড়া খাল বালু পয়েন্টটি অবৈধভাবে ভোগ করছেন স্থানীয় একটি চক্র।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ইজারার চুক্তি লঙ্ঘন করে হারবাং ছড়া খালস্থ লালব্রিজের নিচে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এ অবস্থার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, লালব্রিজ, হারবাং ছড়া সেচ প্রকল্প ও বেড়িবাঁধ। এছাড়াও হারবাং ছড়া খালের দুই তীরে বসবাসরত ও চলাচলরত সামাজিক পাড়া এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার বাসিন্দা, মধ্যম বৃন্দাবনখিল এলাকা রোডের পাঁচ শতাধিক পরিবার এবং বড়ুয়াপাড়া হারবাং সড়কে যাতায়াতকারী আরো ৩ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছে। অপরদিকে, জনবসতিপূর্ণ এলাকার ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের ফলে সড়ক যোগাযোগ হুমকির মুখে পড়েছে।

জানতে চাইলে বালু উত্তোলনে নিয়োজিত পক্ষের শওকত ওসমান ওরফে শওকত আলী দাবি করেন, আমরা কোনো ধরনের ইজারা চুক্তি লঙ্ঘন করছি না। উল্লেখিত বালু পয়েন্ট আমরা লিজ নিয়েছি।

এদিকে, বালু উত্তোলনের কারণে সেচ প্রকল্পের স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। তাই স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপিসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম জানান, চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এলাকাবাসী একটি অভিযোগপত্র দিয়েছে এটা শুনেছি। ইউএনও মহোদয়কে আমি এ ব্যাপারে জানাবো।

এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবলী মোহাম্মদ নোমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। আমরা দেখে আসব। প্রয়োজনে অভিযান পরিচালনা করা হবে।