পটুয়াখালীতে সরকারি আবাসিক ভবন

অধিকাংশই বসবাসের অনুপযোগী

সংস্কারের অভাবে পটুয়াখালী জেলা শহরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকাংশ আবাসিক ভবন জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে বসবাসকারীদের চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরানো এই সরকারি ভবনগুলোতে কেউ বরাদ্দ নিয়ে, আবার কেউ অবৈধভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

জেলা শহরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য গণপূর্ত বিভাগ, পটুয়াখালীর তত্ত্বাবধানে ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে ২৬টি ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ২৩টি ভবনই জরাজীর্ণ হয়ে ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত মার্চ মাসে গণপূর্ত উপবিভাগ পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অমলেন্দু মিস্ত্রি ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ হাওলাদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি আবাসিক ভবনের তালিকা তৈরি করে নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গণপূর্ত বিভাগের তালিকা ছাড়াও অবৈধভাবে বেশকিছু পরিবার জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এর মধ্যে ‘এ’ টাইপের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১ নম্বর ভবনে অবৈধভাবে বসবাস করছেন দুটি পরিবার। ভবনের দরজা জানালা নেই। পলেস্তরা খসে পড়েছে অনেক আগেই। ভবনের নিচতলায় পূর্ব পাশে পরিবার নিয়ে বাস করছেন আবদুর রশিদ নামের এক রিকশাচালক। তিনি বলেন, আমার বাড়ি সদর উপজেলার বড়িঘাই গ্রামে। শহরে রিকশা চালাই। বাসা ভাড়া দিয়ে থাকার সামর্থ্য নাই। তাই এখানে থাকেন। তিনি আরো জানান, দোতলায় গেরাখালী এলাকার শাহাবুদ্দিন নামের আরো একজন রিকশাচালক একই কায়দায় থাকেন বলে জানান তিনি।

৩ নম্বর ভবনের নিচতলায় পরিবার নিয়ে বসবাসকারী গণপূর্ত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দীনেশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, আমার নিজের কোনো ঘর নেই। গরিব মানুষ বরাদ্দ ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে এই ভবনে থাকি।

গণপূর্ত বিভাগ, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ বলেন, শুধুমাত্র ‘ডি’- টাইপ (নতুন) ভবন ছাড়া অন্য আবাসিক ভবনগুলো কমবেশি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ভবনগুলোতে যারা বসবাস করছেন তাদের চলে যেতে বলা হয়েছে। তিনি আরো জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০তলা বিশিষ্ট নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাস নাগাদ ঐ ভবন নির্মাণের অনুমোদন মিলবে হয়তো। অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত নির্মাণ সম্পন্ন করা গেলে এ সমস্যার সমাধান হবে।