শিরোপা জিতেই ক্ষান্ত হবেন মারুফুল

কোচ মারুফুল হক জানিয়েছেন, শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করে তবেই নির্ভার হতে চায় তার দল চট্টগ্রাম আবাহনী। ফাইনালের একদিন আগে এমন অভিপ্রায় জানান টুর্নামেন্টে দেশের একমাত্র ক্লাবের দায়িত্বে থাকা এ কোচ।

চট্টগ্রাম আবাহনী শেষ দেড় সপ্তাহে চারটা ম্যাচ খেলেছে। সেমিফাইনালটা গড়িয়েছিল যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে। গোকুলাম কেরালার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালটিতে জামাল ভুঁইয়া-চিনেদু ম্যাথিউ-আরিফুর রহমানদের শরীরের ওপর তো বটেই, স্নায়ুর ওপরও চাপ গেছে যথেষ্ট। এমন পারফরমেন্সের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আগামীকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে নামবে তারা। 

তবে এমন ঠাসা সূচির জন্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। কোচ মারুফুল হকের ভাষ্য, ‘সূচিটা হাতে পাবার পর থেকেই দলকে এর জন্যে তৈরি করা হচ্ছিল। যেহেতু এটা নকআউট সিস্টেমের টুর্নামেন্ট সেহেতু সেমিফাইনাল, ফাইনালে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে পারে, এটা ভেবেই প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।’

তবে ফাইনালের আগে ৪৮ ঘণ্টা সময়টা একটু কমই মনে হলো স্বাগতিক কোচের কাছে। তিনি বলেন, ‘সময়টা খুবই কম। ৪৮ ঘণ্টায় একটা খেলোয়াড় মাত্র ৮০ শতাংশ রিকোভার করে, শতভাগ হয় না।’

এই কম সময়ে দলকে প্রস্তুত করার একটা দাওয়াইও অবশ্য কোচের আছে, ‘তারপরও আমাদের কিছু রিকোভারি প্রক্রিয়া আছে। কিছু অ্যাকটিভ রিকোভারি আছে, কিছু স্ট্যাটিক রিকোভারি আছে। এগুলোর মাধ্যমে আমি চেষ্টা করছি যে ফাইনালের আগে যেন দলকে শতভাগ ফিট করা যায়।’

শেখ কামাল কাপের চলতি আসরের বাকিসব দল এসেছে দারুণ প্রস্তুতি নিয়ে। গোকুলাম কেরালা প্রাক মৌসুম শুরু করেছিল অনেক আগে থেকেই। একই রকম প্রস্তুতি ছিল মোহনবাগানেরও। তেরেঙ্গানু এফসি এসেছিল মৌসুম শেষ করে। সেখানে বাংলাদেশের দুই দল বসুন্ধরা কিংস আর চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রস্তুতিটা একটু কম হয়ে গিয়েছিল, দলের বোঝাপড়াটাও ঠিকঠাক হচ্ছিল না। যার কারণে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দুটি দলের কোচই কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন।

তবে চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ জানালেন সেটা প্রথম ম্যাচের পরেই কাটিয়ে উঠেছে তার দল, ‘বোঝাপড়ার কথাটা আমি শুধু একবারই বলেছি। বেশি বললে সেটা অজুহাতের মতো হয়ে যায়। এরা যেহেতু পেশাদার খেলোয়াড়, সেহেতু আমি মনে করি না এদের সঙ্গে একটা ম্যাচ খেলা, একটা ট্রেনিং সেশন করার পর বোঝাপড়ায় কোনো সমস্যা হওয়া উচিত। এটা প্রথম ম্যাচে একটু সমস্যা হলেও পরে এটা খেলোয়াড়রা মানিয়ে নিয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

আগেরবার পোচেওন এফসির কাছে হেরে সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর। সেটা এড়াতে পারায় ফাইনালে দলটির নির্ভার হয়ে যাওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু ছিল না মোটেও। তবে কোচ মারুফুল জানালেন শিরোপা জিতেই নির্ভার হতে চায় তার দল।

তিনি বললেন, ‘এখনো প্রধান কাজটা বাকি। আমাদের লক্ষ্য ছিল শিরোপা পুনরুদ্ধার করা। খেলোয়াড়দের মাথাতেও বিষয়টা আছে। যা একটু উদ্যাপন হয়েছে, ড্রেসিংরুমেই হয়েছে। এরপর থেকে খেলোয়াড়রা আবার ফাইনাল নিয়ে ভাবছে। ফাইনালের আগে নির্ভার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শিরোপা জেততে পারলেই নির্ভার হব।

আবাহনীর শেষ দুই ম্যাচে মাঠে দর্শক সমাগম ছিল বেশ। ফাইনালের দর্শকের প্রত্যাশা চাপ সৃষ্টি করবে। তবে সেটা জয় করার চ্যালেঞ্জই খেলোয়াড়দের সামনে ছুড়ে দিলেন মারুফুল, ‘ফাইনালে চাপ থাকবেই। কিন্তু সেই চাপ জয় করে খেলাটাকে উপভোগ করতে পারলেই আপনি সত্যিকারের পারফরমার হবেন।’