সীমান্তের নির্দিষ্ট এলাকা ছেড়ে যায়নি কুর্দি যোদ্ধারা :তুরস্ক

তুরস্ক দাবি করেছে, বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হয়ে এলেও সীমান্তের একটি এলাকা থেকে এখনো কুর্দিস পিপলস প্রটেকশন ইউনিটের (ওয়াইপিজি) যোদ্ধারা সরে যায়নি।

তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের চলে যেতে বলেন। এক সপ্তাহ আগে তুরস্ক, রাশিয়া ও সিরিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। সে অনুযায়ী গতকাল সন্ধ্যার মধ্যে কুর্দি যোদ্ধারা তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার এলাকা থেকে চলে যাওয়ার কথা।

সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কুর্দি যোদ্ধারা যেখানে রয়েছে, রুশ ও তুর্কি বাহিনী সেই এলাকায় টহল দেবে। সাবাহ সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার বলেন, ‘পিস স্প্রিং অপারেশন এলাকায়’ এখনো অবস্থান করছে ওয়াইপিজি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

চলতি মাসের প্রথম দিকে ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার পর ঐ অঞ্চলের কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। ঐ অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ছিল কুর্দিরা। আকস্মিকভাবে তাদের ছেড়ে আসায় এবং এরপর কুর্দিরাা তুরস্কের অভিযানের লক্ষ্যস্থল হওয়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প।

এই পরিস্থিতিতে নিজ দল রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের চাপে পড়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কুর্দিদের বিরুদ্ধে অভিযানে পাঁচ দিনের অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয় তুরস্ক। এই অস্ত্রবিরতি চলাকালে কুর্দি যোদ্ধারা সিরিয়ার তুরস্ক সীমান্ত থেকে শুরু করে ভেতর দিকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে যাবে বলে শর্ত দিয়েছিল আঙ্কারা।

তুরস্কের কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সিরিয়ার কুর্দিস পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি) গেরিলাদের যোগাযোগ আছে, এমন সন্দেহে আঙ্কারা ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দাবি করে আসছে। সীমান্ত অঞ্চল থেকে এই ওয়াইপিজি গেরিলাদের সরিয়ে দিতেই সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ৯ অক্টোবর থেকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল তুরস্ক।