সোনারগাঁওয়ে প্রতারক চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুরে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব সদস্যরা। উপজেলার কাঁচপুর মধ্যপাড়া গ্রামের জাহিদ খানের পাঁচ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন প্রতারক চক্রের হোতা আবুল হোসেন, তার সহযোগী মিরাজ হোসেন শান্ত, মো. ফোরকান ও ফারুক। এ ঘটনায় সোমবার সোনারগাঁও থানায় মামলা হয়েছে। 

থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার খোরকি গ্রামের হোসেন আহম্মেদের ছেলে মো. মনসুর আহম্মেদ গত ২৪ অক্টোবর হবিগঞ্জ থেকে মর্ডান পরিবহনযোগে ব্যবসায়িক কাজে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে বাসের মধ্যে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হয়। আবুল হোসেনের বাড়িও হবিগঞ্জ বলে পরিচয় দেয় সে। কথাবার্তার মাধ্যমে আন্তরিকতা তৈরি হলে বিকালে সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডে একসঙ্গে নামার পর মনসুর আহম্মেদকে দুপুরের খাবারের জন্য আবুল হোসেনের ভাড়াকৃত বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করে। মনসুর কাঁচপুরে আবুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার পর অজ্ঞাতনামা পাঁচ/ছয় জন ব্যক্তি এসে মনসুরকে হঠাত্ চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। ভয়ভীতি দেখিয়ে তার গায়ের কাপড় খুলে নেয়।

এসময় তার সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে আবুল হোসেনসহ অন্যরা মিলে অজ্ঞাতনামা এক মহিলার সঙ্গে জোরপূর্বক নগ্ন ছবি মোবাইল ফোনে ভিডিও করে এবং নারী নির্যাতনের মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিকাশে আরো টাকা বাড়ি থেকে আনার জন্য চাপ দেয়। পরে মনসুর তার ভাই মো. মাশুকের কাছ থেকে বিকাশে ২০ হাজার টাকা নিয়ে আসে। সন্ধ্যার দিকে আরো টাকা আনার জন্য মনসুরকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। সুযোগ বুঝে মনসুর ওখান থেকে পালিয়ে য়ায়। পরে ২৫ অক্টোবর র্যাব-১১ এর কাছে লিখিতভাবে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে বিকাশে টাকা উত্তোলনের সূত্র ধরে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে রবিবার রাতে কাঁচপুর থেকে প্রতারক চক্রের হোতা আবুল হোসেনসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে র্যাব-১১। এসময় মুক্তিপণের ১২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, র্যাব-১১ ইতিমধ্যে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে  গ্রেফতার করে সোনারগাঁও থানায় সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।