বিশ্ববাজারে নিত্য পণ্যের দাম আরো কমার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

বিশ্ববাজারে সবধরনের নিত্য পণ্যের দাম আরো কমার পূর্বাভাস দিল বিশ্বব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক’ প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি ত্রৈমাসিক হিসাবে এমন পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গত এপ্রিলের প্রতিবেদনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও ধাতব পদার্থের দাম কমার যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল এবার তার থেকেও কমিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এবছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ৬০ ডলারের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমে যাওয়ায় আগামী বছর জ্বালানি তেলের মূল্য ৫৮ ডলারেও নেমে যেতে পারে। সংস্থাটি বলছে, বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে নিত্যপণ্যের চাহিদাও কমে এসেছে। ফলে বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় নিত্যপণ্যের দাম আরো কমে আসবে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট সায়লা পাজারবাসিওগ্লু উল্লেখ করেছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে মূল্যবান ধাতুর ব্যবহার এবং জ্বালানির জন্য তেলের ব্যবহার কমে আসছে। এই সম্পদগুলোর উত্পাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহারে পরিবেশসম্মত টেকসই পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে। আগের পূর্বাভাসের চেয়ে ছয় ডলার কমিয়ে জ্বালানি তেলের দামের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবারের প্রতিবেদনে। অর্থনীতির গতি কমে আসায় জ্বালানির চাহিদা কমে এসেছে। তবে আগামী বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছে বিশ্বব্যাংক। এবারের প্রতিবেদেনে শুধু জ্বালানি তেলই নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দামও ১৫ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এবছর লৌহ জাতীয় ধাতব পণ্যের দাম ৫ শতাংশ কমবে, আগামী বছরও কমতির দিকে থাকবে। তবে স্বর্ণ, রৌপ্য—এরকম মূল্যবান ধাতুর মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, এবছর বিশ্বব্যাপী কৃষি পণ্যের দাম কমতির দিকে থাকবে। তবে আগামী বছর অর্থাত্ ২০২০ সালে এটি স্থিতিশীল থাকবে। মূলত চীন-মার্কিন বাণিজ্য বিরোধের ফলে বিশ্বব্যাপী কিছু কৃষি পণ্যের দাম বাড়বে। বিশেষ করে সয়াবিন এবং ভুট্টার দাম বাড়বে। তবে জ্বালানির খরচ কম থাকায় বিশ্বে গড়পড়তায় সারের দাম কম থাকবে।