মধ্যপ্রাচ্যে কি আবারও আরব বসন্ত শুরু হচ্ছে

একদিকে ইরাকের রাজপথে গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। অন্যদিকে লেবাননে বিরোধীরা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। এর আগের সপ্তাহগুলোতে মিশরীয় নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদাল ফাত্তাহ আল সিসির বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছে। ইরাক, লেবানন ও মিশরের মধ্যে পার্থক্য প্রচুর। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরোধীদের ক্ষোভের চিত্র অভিন্ন এবং তাতে লাখ লাখ লোক অংশগ্রহণ করেছে, যাদের বেশিরভাগই তরুণ।

তরুণ জনগোষ্ঠী যে কোনো একটি দেশের জন্য বিশাল জনসম্পদ। তবে তা কেবল তখনই যখন দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের প্রয়োজন পূরণে কার্যকর থাকে। লেবানন, ইরাক এবং এই অঞ্চলের অন্য অনেক দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রায়ই গ্রাস করছে হতাশা, যা সহজেই পালটে রূপ নেয় ক্ষোভে। এই দেশগুলোর সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান দুটো অভিযোগ দুর্নীতি এবং বেকারত্ব। খবর বিবিসি বাংলার

ইরাকের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের এখনো পর্যন্ত নেতৃত্বহীন অবস্থায় দেখা গেছে। কিন্তু সরকারের মধ্যে আশঙ্কা হলো, সময় যত গড়াচ্ছে এবং হতাহতের সংখ্যা তত বাড়ছে, বিক্ষোভকারীরা আরো বেশি সুসংগঠিত হয়ে উঠবে। আন্দোলনকারীরা সরকারের শক্তির প্রধান দুর্গকে টার্গেট করেছে, বিশেষ করে বাগদাদের প্রাচীরবেষ্টিত গ্রিন জোন। এটি মার্কিন আগ্রাসনের কেন্দ্রস্থল ছিল। এখন এখানে সরকারি দপ্তর এবং দূতাবাস অবস্থিত। অন্যদিকে তামাক, পেট্রোল এবং হোয়াটসঅ্যাপ কলের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে ১৭ই অক্টোবর লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়। নতুন এসব কর দ্রুত প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

যে সমস্ত ঘটনা ২০১১ সালের আরব বসন্তকে উসকে দিয়েছিল, দেশগুলোতে তা এখনো বহাল রয়েছে। কোথাও কোথাও তা আরো বেড়েছে। নিপীড়নকারী নেতাদের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ করেছিল, সেবার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তবে সেই অভ্যুত্থানের ফলাফল এখনো অনুভূত হচ্ছে, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া এবং মিশরে। ইরাক এবং লেবানন দুই দেশেই বিক্ষোভরত ব্যক্তিরা কেবল সরকারের পদত্যাগের দাবিই তোলেনি, তারা সমগ্র প্রশাসন ব্যবস্থার সংস্কার বা পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। তাহলে এটা কি নতুন করে আরব বসন্তরে সূচনা? এটা কি ২০১১ সালের অসমাপ্ত কর্মকাণ্ডের একটি প্রতীক?