বিবিসি
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি অটোম্যানদের হাতে বিপুলসংখ্যক আর্মেনীয় মৃত্যুর ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ স্বীকৃতি দিয়েছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি বিল ৪০৫-১১ ভোটে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে জয়ী হয়।
সিরিয়া নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যেই এ বিলটিতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সমর্থন মিলল। সামনের বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী জো বাইডেন প্রতিনিধি পরিষদের এ অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ বিলের মাধ্যমে নিহতদের সম্মান জানানো হলো বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আর্মেনিয়ার ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড স্যাটারফিল্ডকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসোগলু মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের এ ভোটের ফলকে খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, উত্তর সিরিয়ায় আঙ্কারার অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এমনটা করেছে। সিরিয়ায় অভিযানের জন্য তুরস্ক ও এর কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়ে আনা একটি বিলও মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ব্যাপক ভোটে গৃহীত হয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি অটোমানরা আনাতোলিয়ার পূর্ব অংশ থেকে সিরিয়ার মরুভূমি ও আশপাশের এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ আর্মেনীয়কে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল, যার দরুন কয়েক লাখ লোক বিভিন্ন রোগে ভুগে ও অনাহারে মারা পড়েছিল বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা। অটোমানদের ওই পদক্ষেপে কতজনের মৃত্যু হয়েছিল তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক আছে। আর্মেনীয়রা ওই হত্যাযজ্ঞে অন্তত ১৫ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করলেও তুরস্কের অনুমান মৃতের সংখ্যা এর এক-পঞ্চমাংশ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ওই ঘটনায় ‘১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল’ বলে গণহত্যা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসেরও (আইএজিএস) ধারণা। পশ্চিমা অনেক গবেষক দীর্ঘদিন ধরে এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে এলেও অনেক ইতিহাসবিদেরই এতে আপত্তি আছে।
তুরস্কের ভাষ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্মেনীয়দের নির্বাসনে পাঠানোর ঘটনা বর্বরতার নজির হলেও, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী জাতিগোষ্ঠীটিকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে সেটি করা হয়নি। তাদের যুক্তি, যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে নিরীহ অনেক তুর্কি মুসলমানও সেসময় মারা পড়েছিলেন।