সাকিবহীন সফরে রিয়াদ-মুশফিকরা

ভারত সফরে গেল বাংলাদেশ দল

 স্পোর্টস রিপোর্টার

ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। এই সিরিজে বাংলাদেশের তুরুপের তাস হওয়ার কথা সাকিব আল হাসানেরই। এই কন্ডিশনে ব্যাটে ও বলে তারই ছিল সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কথা। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস! সেই সফর থেকেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ দলের এক বছরের সাকিবহীন পথচলা।

গতকাল সাকিবকে ছাড়াই ভারত সফরে রওনা হয়ে গেল বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ দলের এই যাত্রা ছিল বিষাদে ভরা। দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলছিলেন, কঠিন একটা সময় পার করতে হবে তাদের। তবে সাকিবহীন এই সময়ে সেরাটা করারই প্রতিশ্রুতি দিলেন এই দুই সিনিয়র।

সাকিবের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে অধিনায়ক রিয়াদ বললেন, সাকিব ভুল করেছেন; কিন্তু সেটা অপরাধ নয়। তাই দলের সবাই আগের মতোই সাকিবকে ভালোবাসেন, ‘সবাই জানি, ওর না থাকা আমাদের দলের জন্য, দেশের জন্য কত বড়ো আঘাত। ও কত বড়ো খেলোয়াড় সবাই জানি। হয়তো সে একটা ভুল করেছে, কিন্তু অপরাধ করেনি। আমাদের সবার সমর্থন তার সঙ্গে আছে। আমরা সাকিবকে ভালোবাসতাম। আশা করি ভালো বেসে যাব।’

মুশফিক বলছিলেন, সাকিবের বিকল্প কারো হয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব। তারপরও নতুন যারা তার বদলে এসেছে, এটা তাদের জন্য একটা সুযোগ হতে পারে, ‘সাকিবের বিকল্প কেউ হতে পারে না। সাকিবকে অবশ্যই মিস করব। কারণ আমাদের নাম্বার ওয়ান খেলোয়াড়। তাকে ছাড়া খেলাটা আসলে অনেক কঠিন। তার জায়গায় যারা আসছে, তাদের জন্য ভালো সুযোগ।’

সাকিবের অনুপস্থিতি মানে শুধু সেরা অলরাউন্ডারের অনুপস্থিত নয়; দলের অধিনায়কেরও অনুপস্থিতি। তার বদলে সেরা কাজটাই করার প্রতিশ্রুতি দিলেন রিয়াদ, ‘প্রথমত আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমি চেষ্টা করব সর্বোচ্চ দিয়ে তা পালন করতে। দেশের জার্সি গায়ে দিয়ে যখন নামব, চেষ্টা করব দল হিসেবে আমরা যেন সেরাটা দিতে পারি।’

ভারতের বিপক্ষে ভালো কিছু করা কঠিন হবে। তবে সেই কঠিন কাজটাই দল করতে চায় বলে অধিনায়ক বলছিলেন, ‘হ্যাঁ, তারা অনেক ভালো দল। তবে দল হিসেবে যদি আমরা সেরাটা দিতে পারি, ছোট ছোট সুযোগ যদি কাজে লাগাতে পারি, তাহলে সম্ভব (ভালো কিছু করা)।’

মুশফিক বলছিলেন, ভালো ফলাফলের নিশ্চয়তা তারা দিতে পারেন না। তবে ভালো খেলার চেষ্টাটা করতে পারবেন বলে বলছিলেন, ‘ক্রিকেট খেলায় কেউ গ্যারান্টি দিতে পারবে না। একমাত্র ভালো ফলাফলই আমাদের ভালো পথে নিয়ে আসতে পারে। এই ফোকাসটা সবার ভেতরে আছে। চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য আমরা তৈরি।’

সব মিলিয়ে মুশফিক মনে করেন, ভারতের বিপক্ষে খেলা মানে মাঠে অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রেরণার ব্যাপার। সেটাই কাজে লাগাতে চান তারা, ‘এক নম্বর টিমের সঙ্গে খেলবেন, অবশ্যই চ্যালেঞ্জ থাকবে। আর চ্যালেঞ্জ যখন থাকবে, তখনই ভালো করার প্রেরণা আরো বেশি থাকবে। সবার কাছে দোয়া চাইছি। শুধু আমার জন্য না, সাকিবের জন্য দোয়া চাইছি। ও যেন আবার মানসিকভাবে শক্ত হয়ে ফিরে আসে। সবাই যেন তার পাশে থাকে।’