কমল কান্ত রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা
বাঁশশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কয়েকশত পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। বাঁশের তৈরি মোড়া এখন ঢাকা, চিটাগাং ও খুলনার বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় অর্থ, উদ্যোগ ও সুযোগের অভাবে এ শিল্পের প্রসার ঘটাতে পারছে না। এ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে গ্রামীণ এ কুটিরশিল্প। এ কুটিরশিল্প বদলে দিয়েছে মানুষের জীবনচিত্র। বাপদাদার আদি এ পেশাকে জড়িয়ে এ এলাকার ভূমিহীন অনেক পরিবার স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছে।
তিস্তা নদীঘেরা এ উপজেলায় তিস্তার ভাঙনে প্রতিবছর শত শত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। এ নিঃস্ব পরিবারগুলো জীবন বাঁচার তাগিদে বেঁচে নিয়েছে বাঁশের এ শিল্পকে। এ রকম একজন সামছুল হক সহায়সম্বল হারিয়ে ধামুর এলাকায় বাঁধের ধারে বাস করছেন। আট বার বাড়ি ভাঙনের শিকার সামছুল হকের তিন ছেলে সবাই এ কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন তারা সবাই মিলে দুইটা বাঁশের কাজ করতে পারেন। এজন্য ব্যয় হয় ৩০০ টাকা। বাঁশের তৈরি হোরপা, ডালি, কুলা, ডুলিসহ অন্যসামগ্রী তৈরি করে ৭০০ টাকা বিক্রি করে। এতে তাদের মুনাফা হয় ৪০০ টাকা। সামছুল হক বললেন, এসব জিনিসপত্র তারা পাইকারিও বিক্রি করেন।
গান্নারপাড় গ্রামের আব্দুল মালেক (৬৭) গত ১২ বছর ধরে বাঁশের মোড়া তৈরি করছেন। তার ছেলে শাহীন ছাড়াও মোট ১৮ জন এ কাজের সঙ্গে জড়িত।
আব্দুল মালেক আরো বলেন, একটি মোড়া তৈরি করতে দুই দিন লাগে। প্লাষ্টিক, বাঁশ, তার, সুতা ও মজুরি বাবদ খরচ হয় ৫০০ টাকা। প্রতিটি মোড়া বিক্রি করেন সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। বাঁশ দিয়ে তিনি চেয়ার, টেবিল, মোড়াসহ অন্যসামগ্রী তৈরি করতে পারেন। আব্দুল মালেকের ছেলে শাহীন বলেন, সহযোগিতা পেলে এ শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। যেখানে শত শত শ্রমিকের কাজের সংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
উপজেলার হাবু এলাকার মুসা মিয়া ৪৫ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকানির্বাহ করে আসছেন। তাছাড়া বেতগাড়ী এলাকায় ৩০টি পরিবার যুগ যুগ ধরে বাঁশশিল্প নিয়ে বেঁচে আছে। গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গঙ্গাচড়ায় একটি অর্থনৈতিক জোন স্থাপন এখন সময়ের দাবি।