বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তেই ছড়িয়ে পড়েছে মানুষ। কিন্তু একসময় এই আধুনিক মানুষ বসবাস করত একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। কালের পরিক্রমায় আধুনিক মানুষের সেই আদি বাসস্থান আজ লবণের মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর মানুষ ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর সব প্রান্তে।
মায়ের দিক থেকে শিশুদের মধ্যে যে ডিএনএ আসে, সে রকম শত শত ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে মানুষের পারিবারিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য বের করা হয়েছে। সেই ডিএনএ-র জিনগত তথ্যের সঙ্গে ভূগোল, কম্পিউটারের মাধ্যমে জলবায়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সেই সময়ের একটি চিত্র এনে এই ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন। জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণার ফল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষের সেই আদি বাসস্থান ছিল বতসোয়ানার জাম্বোজি নদীর দক্ষিণের একটি এলাকায়। বর্তমানে এলাকাটি একটি লবণের মরুভূমি হলেও একসময় সেটি ছিল একটি হ্রদ। এখন থেকে প্রায় দুই লাখ বছর আগে সেখানে বসবাস করতেন মানুষ। গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পালটে যাওয়ার আগে পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার বছর ধরে সেখানে বসবাস করেছেন আমাদের পূর্বপুরুষরা। উর্বর সবুজ করিডোর উন্মুক্ত হওয়ার পর তারা সেখান থেকে সরে যেতে শুরু করেন। এভাবে আফ্রিকার বাইরে পরবর্তী অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয় মানুষের।
অস্ট্রেলিয়ার গার্ভান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল রিসার্চের একজন জিন বিজ্ঞানী অধ্যাপক ভেনেসা হেইস বলেন, এটা বেশ কিছুদিন ধরেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, শারীরিকভাবে আধুনিক মানুষ প্রায় দুই লাখ বছর পূর্বে আফ্রিকায় দেখা যেতে শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যা নিয়ে বিতর্ক চলছে, তা হলো ঠিক কোন স্থান থেকে এই মানুষদের দেখা যেতে শুরু করে সেই জায়গা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি। এবং ঠিক কি কারণে তারা আলাদা হয়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল তার কারণ। অধ্যাপক হেইসের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য এই খাতের অন্য গবেষকদের মধ্যে অবশ্য সংশয় রয়েছে।-বিবিসি