প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতার দায়ের করা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সার গতকাল বুধবার এ রায় দেন। এর আগে গত সোমবার আদালতে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। মোট ছয় জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক গতকাল রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। রায় ঘোষণার সময় গিয়াস কাদের চৌধুরীকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত জেলা পিপি সমীর দাশগুপ্ত রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তবে আমরা আরো বেশি শাস্তি আশা করেছিলাম।’
এদিকে রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে গিয়াস কাদের চৌধুরীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এনামুল হক বলেন, মাত্র ২০ মিনিটে ছয় জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, তারপর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে; যা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এদেশে লাখ লাখ মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। অথচ সরকার তাদের বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ কিছু মামলা দ্রুতগতিতে শেষ করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে গিয়াস কাদের চৌধুরীর মামলাও একটি। তিনি বলেন, “গিয়াস কাদের চৌধুরী বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তিনি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এ কারণে আমরা আদালতে সময় প্রার্থনা করেছিলাম। আমাদের আবেদন নামঞ্জুর করে ‘অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে রায় প্রদান করে’ আদালত এটাই প্রমাণ করেছে যে এটি একটি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়’। এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা গিয়াস কাদের চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”