ময়মনসিংহে ব্রিফকেসে পাওয়া লাশের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার চার

ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম রাস্তায় ট্রলি ব্যাগে পাওয়া খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনস দরবার হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খুন হওয়া যুবকের নাম মো. বকুল (২৮)। তিনি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলার উপজেলার হুগলা এলাকার ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। গ্রেফতারকৃত চার জন হলেন, ফারুক মিয়া, তার ভাই হূদয় মিয়া, বোন সাবিনা আক্তার ও ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার। তাদের বাড়ি একই এলাকায়। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আসামিরা বানিয়াচালে ভাড়া করা বাসায় বকুলকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর হাত-পা ও মাথা থেকে দেহ বিচ্ছিন্ন করে ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রামে ফেলে রাখে।

পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, ময়মনসিংহের পুলিশ বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করে। সিসি ক্যামেরার ছবি ও চিরকুটের সূত্র ধরে নেত্রকোনার পূর্বধলা, ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও গাজীপুরের বানিয়ারচালায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন এই চার জনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত একটি ছুরি, মোবাইল ফোন, একটি ব্যাগ ও এক টুকরো ইট আলামত হিসেবে উদ্ধার করে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এটা তার জীবনের সেরা ডিটেকশন। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাবে না। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবিনা ও বকুলের প্রেমঘটিত ব্যাপার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বকুলের নামে তিনটি মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র ব্রিজের কাছে একটি লাল ট্রলি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগ খুলে হাত-পা ও মাথাবিহীন একটি দেহ পাওয়া যায়। এক ঘণ্টার ব্যবধানে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার একটি পা উদ্ধারের খবর জানান। পরদিন রাজাপুরে একটি ব্যাগে কাটা পা, দুটি হাত ও মেয়েদের হাত ব্যাগে একটি চিরকুটসহ মাথা পাওয়া যায়।