কমলগঞ্জে চা শ্রমিকদের ভূমির মালিকানা ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি

 “নির্বাচন আইলে নেতারা কত কথা বলে। আমরারে সব দিলাইবো। শিক্ষা, চিকিত্সা, ঘর, ভূমির অধিকার, বেকারত্ব সব সমাধানের কথা কয়। নির্বাচনে পাস করলে আর তাদের নাগাল মিলে না। এখন নির্বাচন আইছে, যে পাস করবো তাদের কাছে আমরা চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার ও মজুরি বাড়ানোর দাবি কইলাম।” গতকাল শুক্রবার সেকশনে কাজের ফাঁকে এ প্রতিনিধির কাছে কথাগুলো বলেন কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক লছমি রানী রাজভর।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে সরকার নির্বাচিত হবে তারা যেন চা শ্রমিকদের ভূমির মালিকানা, মজুরি বৃদ্ধি ও বেকারত্ব দূরীকরণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করে।

পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সের নারী চা শ্রমিক সরলা বাউরী বলেন, ‘সরকার চা শ্রমিকদের কথা ভাবে না। এতো দিনেও আমরার ভূমির অধিকার পাইলাম না। সরকার কই আছে, আমরা তো চোখে দেখি না। যা রুজি করি তা দিয়েই বাচ্চাইনতরে লিয়া (নিয়ে) খাইতেছি। এখন বাচ্চা-কাচ্চা লিয়া চলা অসম্ভব।’ লছমি রানী রাজভর, হেরকি আমা, আপ্পিয়ামাসহ কয়েকজন নারী শ্রমিক জানান, এখন ভোটের জন্য প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা আসছেন। তাদের কাছে চা বাগানের শ্রমিকদের দাবি, যে নির্বাচিত হবে সেই সরকার চা শ্রমিকদের নূনতম দৈনিক মজুরি ২৫০ টাকা, ভূমির অধিকার ও বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করা। তারা আরো বলেন, যুগ যুগ ধরে চা বাগানে বসবাস করলেও চা শ্রমিকদের আজও ভূমির মালিকানা নেই। আমাদের ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।