সিমরন হেটমেয়ার নিশ্চয়ই মেহেদী হাসান মিরাজের নামটা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু ভুলে যাওয়াটা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে উঠেছে।
সেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অধিনায়ক মিরাজকে হারিয়ে জয় পেয়েছিলেন ওয়েস্টইন্ডিজ অধিনায়ক হেটমেয়ার। এরপর থেকে পরাজয় আর পরাজয়। এই বাংলাদেশ সফরে গতকাল পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ৬ বার মিরাজের মুখোমুখি হয়েছেন হেটমেয়ার। এই ৬ বারই মিরাজের বলে আউট হয়েছেন তিনি। একটা ম্যাচে মিরাজ আক্রমণে আসার আগেই ফিরে যাওয়ায় রক্ষা পেয়েছিলেন!
এখন মিরাজকে দুঃস্বপ্নেও দেখতে পারেন হেটমেয়ার!
গতকালকের ম্যাচের পর অবশ্য ওয়েস্টইন্ডিজের অনেক ব্যাটসম্যানের জন্যই আবার দুঃস্বপ্নের নাম হয়ে গেছেন মিরাজ। মাঝে একটা টেস্টে ১২ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়দের আতঙ্কে পরিণত হয়েছিলেন বাংলাদেশী এই ডানহাতি স্পিনার। এবার ওয়ানডেতেও নিজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংটা করে ফেললেন এই ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে।
মাত্র কিছুদিন আগেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের ওয়ানডেতে সেরা বোলিং করেছিলেন মিরাজ। গতকাল রান দেওয়ার দিক থেকে এবং উইকেট নেওয়ার দিক থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন। ১০ ওভার বল করে ১টি মেডেন নিলেন এবং খরচ করলেন মাত্র ২৯ রান। এই ২৯ রানের বিনিময়ে তুলে নিলেন ৪টি উইকেট।
৯ রান করা চন্দরপল হেমরাজকে আউট করে শুরু করেছিলেন মিরাজ; বাংলাদেশের পক্ষেও ওটা গতকালকের ম্যাচের প্রথম উইকেট ছিল। এরপর ড্যারেন ব্রাভোকে নিয়ে একটা জুটি করার চেষ্টায় ছিলেন শাই হোপ। ব্র্যাভোকে আউট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই আশার গুড়ে বালি দেন মিরাজ। মাঝে মারলন স্যামুয়েলকে এসে ফেরান এই ম্যাচেই মাঠে ফেরা সাইফউদ্দিন। এরপর আবার মিরাজ ২ উইকেট তুলে নেন। একেবারে রানের খাতা খোলার আগেই এলবিডব্লু হয়ে বিদায় নেন হেটমেয়ার। তিনি রিভিউ নেওয়ার চিন্তাও করলেন না। এরপর ১ রান করা ওয়েস্টইন্ডিজ অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলকেও ফেরান মিরাজ। পূর্ণ করেন নিজের ৪ উইকেট।
মিরাজের বোলিং কোটা শেষ হওয়ার পর ওয়েস্টইন্ডিজের লেজ ছেটে দেওয়ার দায়িত্ব নেন অধিনায়ক ও সহঅধিনায়ক। মাশরাফি ও সাকিব নেন ২টি করে উইকেট। মাশরাফি ফেরার কেমু পল ও কেমার রোচকে। আর সাকিব ফেরার রোস্টন চেজ ও অ্যালেনকে।
শেষ অবধি অবশ্য শাই হোপ ১০৮ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গী দেবেন্দ্র বিশুর রান ছিল ৬।
জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের টপ অর্ডার স্বচ্ছন্দে শুরু করে। আগের দিনই অধিনায়ক মাশরাফি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই ম্যাচে ৩ নম্বরে ফিরতে পারেন সৌম্য সরকার। মাশরাফি বলেছিলেন, ‘আমি প্রথম ম্যাচে বলেছিলাম সৌম্যর জন্য বেস্ট পজিশন হচ্ছে ওপেন বা তিন নম্বর। কারণ ও পেস বোলিং খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সার্কেলটা ব্যবহার করলে ওর জন্য সবচেয়ে ভালো হয়। আসলে এমন একটা পরিস্থিতি হয়েছে, যার কারণে ওকে ওই পজিশনে সেট করতে হয়েছে। তবে এটা এডজাস্টম্যান করা জরুরি, যত তাড়াতাড়ি হয় ততোই ভালো।’
মাশরাফির কথা অনুযায়ীই এই ম্যাচে লিটন দাস আউট হওয়ার পর সৌম্য আসেন ব্যাটিংয়ে। আর আগের দুই ম্যাচ ৩ নম্বরে খেলা ইমরুল বাদ পড়েন একাদশ থেকে। সেই জায়গায় সুযোগ করে নেন মোহাম্মদ মিঠুন।
স্কোরকার্ড
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
হেমরাজ ক মিঠুন ব মিরাজ ৯ ১৭ ২ ০
হোপ অপরাজিত ১০৮ ১৩১ ৯ ১
ব্র্যাভো ব মিরাজ ১০ ২৬ ১ ০
স্যামুয়েলস ব সাইফউদ্দিন ১৯ ৩২ ২ ০
হেটমায়ার এলবিডব্লু মিরাজ ০ ৬ ০ ০
পাওয়েল ক মুশফিক ব মিরাজ ১ ৯ ০ ০
চেজ ক সৌম্য ব সাকিব ৮ ২০ ০ ০
অ্যালেন ক মিঠুন ব সাকিব ৬ ১৭ ০ ১
কেমু ব মাশরাফি ১২ ২২ ০ ০
রোচ এলবিডব্লু মাশরাফি ৩ ৮ ০ ০
বিশু অপরাজিত ৬ ১২ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-১, লেবা-৪, ও-৬, পেনা.-৫) ১৬
মোট: ৫০ ওভারে ১৯৮/৯
বোলিং:মুস্তাফিজ ৩৩/০, মিরাজ ২৯/৪, সাকিব ৪০/২, মাশরাফি ৩৪/২, সাইফউদ্দিন ৩৮/১।
বাংলাদেশ
তামিম অপরাজিত ৮১ ১০৪ ৯ ০
লিটন ক পাওয়েল ব পল ২৩ ৩৩ ৫ ০
সৌম্য ব পল ৮০ ৮১ ৫ ৫
মুশফিক অপরাজিত ১৬ ১৪ ২ ১
অতিরিক্ত (নো-১, ও-১) ২
মোট: ৩৮.৩ ওভারে ২০২/২
বোলিং: পল ৩৮/২।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: মেহেদী হাসান মিরাজ
সিরিজ সেরা: শেই হোপ
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী