স্বাধীনতা কাপ ফুটবল

বসুন্ধরা কিংসও শেষ চারে

বসুন্ধরা কিংস ২ (৩)

 রহমতগঞ্জ ২ (২)

স্পোর্টস রিপোর্টার

আরো একটি স্মরণীয় ম্যাচ দেখল ফুটবল দর্শক। এবার বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে রহমতগঞ্জের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনায় তাতিয়ে রাখল। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে বসুন্ধরা ৩-২ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে উঠল। ২০ ডিসেম্বর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বসুন্ধরার প্রতিপক্ষ আবাহনী।

শেষ কোয়ার্টার ফাইনালেও কাল উত্তেজনার রং ছড়িয়েছিল। বসুন্ধরাকে বিদায় করে দেওয়ার মতো সব সুযোগ কাজে লাগিয়ে রহমতগঞ্জ সেমিফাইনালের পথে পা রেখেই দিয়েছিল প্রায়। কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচটা ফিরিয়ে আনেন বসুন্ধরার অধিনায়ক বদলি খেলতে নামা ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেস। রহমতগঞ্জ জামাল হোসেনের গোলে এগিয়ে ছিল ১-০। কলিন্দ্রেস ৫৭ মিনিটে মাঠে নামার পর বদলে যায় বসুন্ধরার চেহারা। ৬৭ মিনিটে গোল শোধ করে বসুন্ধরাকে খেলায় প্রাণ এনে  দেন ১-১। রাশিয়া বিশ্বকাপে কোস্টারিকার এই ফুটবলার বকেআস ঢুকে বাঁক খাওয়ানো বলে গোল করে চোখ ধাঁধিয়ে দেন। এর আগ পর্যন্ত সুফিল, নাসির, মতিন মিয়ারা রহমতগঞ্জের জালে বলই রাখতে পারছিলেন না। রহমতগঞ্জও খেলা দেখিয়ে দিয়েছে। কঙ্গোর সিউ জুনাপিউর বাড়ানো বলে ফয়সাল আহমেদ ডান পায়ে সেকেন্ড পোস্টের ভেতরে দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে দেন রহমতগঞ্জকে ২-১। মুহূর্তে কলিন্দ্রেস এবং ফয়সালের গোলের সৌন্দর্য নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক লেফট উইঙ্গার মামুন বাবু বললেন ফয়সালের চেয়ে কলিন্দ্রেসের গোলটা বেশি ভালো হয়েছে। ফয়সালের গোলটাও ভালো।

খেলার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোল শোধ করে বসুন্ধরা ম্যাচ ঠেকানোর চেষ্টা করে। রহমতগঞ্জ ফাঁকে ফাঁকে আক্রমণ করলেও নিজেদের ঘর সামাল দিতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে। কলিন্দ্রেস একাই যেন মরিয়ে হয়ে উঠেন। গোল শোধ করার জন্য রক্ষণভাগে মাঝ মাঠে আক্রমণভাগে যেখানে বলা সেখানেই কলিন্দ্রেস। সঙ্গে উজবেকিস্তানের ফুটবলার বখতিয়ার। তাদের আক্রমণ ফেরাচ্ছিলেন গোলকিপার তিতুমীর। কিন্তু সেটাই বা কতক্ষণ। বখতিয়ার ও কলিন্দ্রেসের সঙ্গে যোগ দেন বুড়ো কাঞ্চন। তার থ্রোইনে বল পেয়ে কলিন্দ্রেস ক্রস ফেলেন। চোখের পলকে রহমতগঞ্জের ডিফেন্স অগোছালো হয়ে যাওয়ার সুযোগ বখতিয়ার মাথা ছুঁয়ে গোল করেন ২-২, ইনজুরি টাইমের শেষ বাঁশি বাজার আগে।

কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনেক নাটকীয় ঘটনা দেখেছেন দর্শক। ম্যাচে একাধিক নায়কের চেহারা দেখা গেছে। রহমতগঞ্জের গোলকিপার তিতুমীর চৌধুরী টিটু এবং ডিফেন্ডার অধিনায়ক নাইজেরিয়ান মানডে ওসাজি বসুন্ধরার সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

টাইব্রেকারেও ঘটল নাটকীয়তা। বসুন্ধরার গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো এবং রহমতগঞ্জের গোলকিপার টিটু বল ঠেকিয়েছেন। কিন্তু গোল মিসের কারণে শেষ পর্যন্ত বসুন্ধরার কাছে হার মানতেই হয়েছে রহমতগঞ্জকে।

টাইব্রেকার ভাগ্যের খেলা। বখতিয়ার প্রথম শটে গোল করলেও রহমতগঞ্জের জুনাপিউর শট ঠেকিয়ে দেন জিকো। ৬০ লাখ টাকার বসুন্ধরার দামি ফুটবলার ইমন বাবুর শট থামিয়ে দেন টিটু।  রহমতগঞ্জের নাইজেরিয়ান চিগোজির শট প্রতিহত করেন জিকো। বসুন্ধরার জনির সাইড পোস্টে মারেন। এভাবে চলতে চলতে শেষ শটে কলিন্দ্রেস গোল করলেও রহমতগঞ্জের অধিনায়ক মানডে গোল করতে পারেননি। বসুন্ধরা টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে।