জর্ডানে কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে শত শত মানুষের বিক্ষোভ

সমাবেশ, বিক্ষোভ ও মিছিলের মাধ্যমে প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে কর সংস্কার বিলের অবসান ঘটানোর কয়েক মাস পর আবার জর্ডানে কর বিরোধীরা রাস্তায় নেমেছে। দেশটির সরকার পরিকল্পিতভাবে কর বৃদ্ধি এবং উচ্চ বেকারত্ব হারের বিরুদ্ধে রাজধানীর আম্মানে শত শত জর্ডানি নাগরিক এ প্রতিবাদ করছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধ করে স্থানীয় দাঙ্গা পুলিশ। এ সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ওমর আল-রাজ্জাজের অফিসের কাছে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ছোড়ে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় কর সংস্কার বিল এবং জুনে জর্ডানিদের কঠোর প্রতিবাদের পর এটিই ছিল বিক্ষোভকারীদের প্রথম ও প্রধান সমাবেশ। গত মাসে সংসদ নির্বাচনের পর একই ধরনের কর বিলের অনুমোদনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। যদিও গত জুন মাসে বিক্ষোভের পরে বিলটিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। গত জুনে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ হয়েছিল সেটি বেশ কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে হচ্ছিল। যার ফলে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হানি আল মুল্কি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

বর্তমানে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ওমর আল-রাজ্জাজ। তিনি বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ এবং আগে জর্ডানের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শপথ করেছিলেন যে, দেশ পরিচালনা করতে শাসন ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে সাজাবেন। এছাড়া অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তিনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রশয় দিবেন না। যদিও বর্তমানে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে জর্ডান সরকার। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ওমর আল-রাজ্জাজ এখনো তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছেন। এদিকে পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে কিং আবদুল্লাহ ও সরকারের সমালোচনামূলক শ্লোগান দেওয়ায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ। জর্ডান সরকারের মুখপাত্র জুমানা ঘুনাইমাত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, যে আইন লঙ্ঘন করবে সেই শাস্তি পাবে। এদিকে উত্তেজনা কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে কিং আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার একটি সাধারণ ক্ষমা আইন খসড়া করার নির্দেশ দেন। যেন কয়েক হাজার মানুষ নির্দোষ সাব্যস্ত হয়।