জাতীয় নির্বাচন

পরিবেশ ঠিক রাখতে সজাগ থাকার আহ্বান

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সজাগ থাকার জন্য তৃণমূলকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ মনে করছে, নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে ঐক্যফ্রন্ট। এ কারণে তারা ইস্যু খুঁজছে, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে চায় তারা। তাই তৃণমূলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। কেউ যাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সেজন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সজাগ ও সংযত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা যতদূর সম্ভব দল ও অ্যালায়েন্সকে সতর্ক থাকতে বলেছি। যাতে দেশে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট না হয়। এ ব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছি এবং যেসব জায়গাগুলো ভায়োলেন্সপ্রবণ সেসব জায়গায় বিশেষভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারক-বাহক হচ্ছে বিএনপি। বিজয়ের মাসে এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে দেশবাসী নৌকার বিজয়কে নিশ্চিত করবে।’

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হওয়ার জোরালো টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি। ইতিমধ্যে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলটির নেতারা মনে করেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি জোট জ্বালাও-পোড়াও করেছে। হরতাল-অবরোধ ডেকে দেশে বড় ধরনের একটা অচলাবস্থা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। বিএনপি কখনো চায় না উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এ কারণে তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। আর এই ষড়যন্ত্র সফল করতে সম্প্রতি লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং দেশে মির্জা ফখরুল পাকিস্তানি দূতাবাসে গিয়ে গোপন বৈঠক করেছেন। তবে নির্বাচন বানচাল করার জন্য কোনো          ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে চাইলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

সূত্র জানায়, যেকোনো মূল্যে নির্বাচনী মাঠ দখলে রেখে সুফল ঘরে তুলতে চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক ৪০ সহস াধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আসনভিত্তিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা টিম কাজ চালাচ্ছে। সেখানে যুক্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীদের এবং সরকার সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে দেশের আলোচিত বরেণ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী তারা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জানা গেছে, সারাদেশে ৪০ সহস াধিক ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে।