বিএনপির বেশিরভাগ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি —ইসি সচিব

নির্বাচনী প্রচারে হামলা-সংঘর্ষের যেসব ঘটনা ঘটছে ৩০০ সংসদীয় আসনের বিবেচনায় সেটা এক থেকে দুই শতাংশ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সব ঘটনা অস্বীকার করছে না। এ সব নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইসি যথেষ্ট সজাগ আছে, পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব এ কথা বলেন।

ভোটের মাঠে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক জোটের নেতা ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, এ বিষয়টি আমরা আবগত নই। কেউ লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ করেননি। এ ছাড়া অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তার বেশিরভাগেরই সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া যে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে, সেগুলো অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ৩০০টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় ১৮৪৬ জন প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তাদের সঙ্গে আরো অনেক লোক প্রচারে অংশগ্রহণ করছেন। বিপুল জনগোষ্ঠির এ দেশে এ ধরনের একটি বা দুটি ঘটনা ঘটতে পারে।  

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়া বিগত এক মাসে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা আসছে। তাই ক্ষেত্র বিশেষ ব্যালট পেপার ছাপানো কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তবে অবশ্যই ভোটের ৭ দিন আগে সব এলাকায় ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি ১০ দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে। আমাদের তিন ধরনের বিচারকরা মাঠে রয়েছেন। নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ৬৫২ জন, ২৪৪ জন সিনিয়র  ডিস্ট্রিক্ট জাজ, জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে ৬৪০ জন। তারা নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত মোট চারদিন দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে প্রায় এক হাজার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। যেহেতু এরাই নির্বাচনের মাঠে তারা বিচারিক দায়িত্ব পালন করবেন তাই পৃথকভাবে অন্য কোনো বাহিনীকে বিচারিক দায়িত্ব দেয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার এবং পুলিশ ইনচার্জ মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন। অন্যদের কাছেও মোবাইল ফোন থাকতে পারে তবে সেটি নিরাপত্তার স্বার্থে ভোট কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে ব্যবহার করাই ভালো।