বাংলাদেশ সরকারকে অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অনলাইন নিউজ এজেন্সি বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মুখ্য উপ-সহকারী মন্ত্রী এলিস ওয়েলস এ আহবান জানান। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে বাংলাদেশে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদেও একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এলিস ওয়েলস বলেন, সহিংসতার কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় এবং যারা গণতন্ত্রকে ক্ষুণ্ন করতে চায়, তারাই এক্ষেত্রে লাভবান হয়।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পুরোপুরিভাবে অংশগ্রহণের জন্য সব দলকে স্বাধীন ও নিরাপদ বোধ করতে হবে। তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের স্বাধীনতা, দেশজুড়ে প্রচারণা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে। বহু ও প্রাণবন্ত বিতর্ক থেকেই উদ্ভূত হয় শক্তিশালী গণতন্ত্র।

নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে ওয়েলস বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে উদ্বুদ্ধ করছে, যা বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দলকে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করা মার্কিন সংগঠন (এনডিআই)-এর পাঁচ সদস্যের দলকে এ খাতে তহবিল দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বাংলাদেশের নির্বাচন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য তত্পরতা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য টেড ইয়োহো, এলিয়ট এনজেল, ব্র্যাড শেরমান, স্টিভ শাবট, জেরাল্ড কনোলি ও ড্যারেন সোটোর উদ্যোগে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হয়। মত প্রকাশ ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানানো হয়েছে ওই প্রস্তাবে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনে করা অনুরোধে সাড়া দেওয়া এবং নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য হুমকি:মার্কিন কংগ্রেসম্যান

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন কংগ্রেসম্যান জিম ব্যাংকস। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো গ্রুপ এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হুমকি। ওয়াশিংটনে আয়োজিত ‘স্ট্যাবিলিটি, ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইসলামিজম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ব্যাংকস বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বয়স খুব বেশি নয়। আর ক্ষমতা দখলে কিছু উগ্রবাদী সংগঠন এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। স্বাগত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধদের মতো সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলার শিকার হয়েছেন আধুনিক মুসলিমরাও। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। কংগ্রেসম্যান বলেন, উগ্রপন্থি ইসলামী গোষ্ঠীগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএআইডি ও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে বলা হয়েছে যেন এমন উগ্রবাদী গোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনকে সহায়তা করা না হয়। তিনি আরো বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিকে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন হোক এবং সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক।

আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন লিবার্টি সাউথ এশিয়ার সেথ ওল্ডমিক্সন, মিডলইস্ট ফোরামের স্যাম ওয়েস্ট্রপ ও ইনভেস্টিগেটিভ প্রজেক্ট অন টেরোরিজম-এর আভা শংকর। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন, হাডসন ইনস্টিটিউটের পরিচালক রাষ্ট্রদূত হুসাইন হাকানি।