ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগে সোমবার রাতের ট্রেন দুর্ঘটনায় তছনছ হয়ে গেছে মাইনুদ্দিনের জীবন। ঢাকার একটি হোটেলে কাজ করা মাইনুদ্দিন মঙ্গলবার দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কসবায় যান। স্ত্রী কাকলি আক্তারকে (২৮) খুঁজে পান কসবার বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা অস্থায়ী তথ্যকেন্দ্রের লাশের সারিতে। আর সাড়ে তিন বছরের মেয়ে মাহিমাকে পান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে।
মাইনুদ্দিন বলেন, রবিবার সিলেটের হযরত শাহজালাল (রা.) ও হযরত শাহপরানের (রা.) মাজার জিয়ারত করতে যান তার স্ত্রী কাকলি আক্তার, মেয়ে মাহিমা আক্তার, মামা জাহাঙ্গীর আলম, মামী আমাতন বেগম ও মামাতো বোন মরিয়ম। সোমবার সিলেট থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারা। চাঁদপুর থেকে ট্রলারে করে তাদের শরীয়তপুরের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী, মামি ও মামাতো বোন মারা যান।
আরো পড়ুন : সৌদিআরবে নারীশ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবি
দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে যখন মাহিমাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন তার সঙ্গে কেউ ছিল না। দুর্ঘটনায় আহত রাহিমা আক্তার নামের এক বৃদ্ধা ওই শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। শিশুর নাম মাহিমা। শিশুটির কপালের বাঁ পাশ থেকে মাথার পেছন অংশ পর্যন্ত ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। কপালে সেলাই দেওয়া হয়েছে। শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে আছে। বিকাল ৫ টার দিকে মাইনুদ্দিন তার স্ত্রী, মামি ও মামাতো বোনের লাশ শনাক্ত করেন। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি আছে মাহিমা।
ইত্তেফাক/ইউবি