সিলেট-ঢাকা যাতায়াতে সড়ক, রেল ও আকাশ—তিন পথেই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। সড়কপথে উন্নয়নকাজের কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে ভোগান্তি চলছে। সড়কপথে যেতে সময় লাগছে ১০-১২ ঘণ্টা। রেলপথেও শিডিউল বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আকাশপথে টিকিটের দাম আকাশচুম্বী বলে যাত্রীদের অভিযোগ।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উন্নয়নকাজ চলায় রেলপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীদের চাপ কুলিয়ে উঠা যাচ্ছে না। অনেক সময় টিকিট দিতে না পেরে বিব্রত বোধ করি।’
পাঁচ বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি ৩৮ শতাংশ
ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়ক প্রকল্প ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-সিলেট করিডর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি ১৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত হয়। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ছিল ২১ শতাংশ। এরপর কাজের গতি কিছুটা বেড়ে বর্তমানে তা ৩৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়কের পাশের সাত জেলায় ৮২৯.৮৩ একর জমি অধিগ্রহণের ধীরগতি ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে জটিলতায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ১০০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হবে বলে মন্ত্রণালয় আশাবাদ জানিয়েছে। চলমান নির্মাণকাজে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সার্ভিস লেনের কাজের কারণে সামান্য বৃষ্টিতে গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। রোদে ধুলাবালির কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ১৪টি স্পটে রোড ডিভাইডার বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। দুর্ঘটনাও বাড়ছে। জনদুর্ভোগ কমাতে সিলেট থেকে প্রথম সাত কিলোমিটার রাস্তা জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কাঁচপুর থেকে সিলেটের লালাবাজার পর্যন্ত মহাসড়ক ছয় লেন করা হলেও লালাবাজার থেকে কদমতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অংশ দুই লেনই থাকছে। পরিবহন শ্রমিকদের আশঙ্কা, এতে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়তে পারে। সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, কদমতলী পর্যন্ত সড়কটি ছয় লেন করা না হলে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়বে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সওজ।
রেলপথেও শিডিউল বিপর্যয়
এদিকে, সিলেট-ঢাকা রেলপথেও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। রেলপথে যেতে সময় লাগে ৮-৯ ঘণ্টা। ইঞ্জিনসংকট, পুরোনো কোচ, নিয়মিত বিলম্ব, বিনা টিকিটের যাত্রীর চাপ ও যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একটি ইঞ্জিন দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি তেলবাহী ট্রেনও পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ২০১২ সালের ১৫ মে ঢাকা-সিলেট রুটে ‘কালনী এক্সপ্রেস’ চালু হয়। মাত্র চারটি স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেওয়া ‘কালনী এক্সপ্রেস’ শুরুতে ছিল এই রুটের সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন। কিন্তু এটি এখন সবচেয়ে জরাজীর্ণ। ‘কালনী এক্সপ্রেসে’র যাত্রাবিরতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনটি প্রায়ই এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে। ফলে সিলেট পৌঁছাতে রাত ১১টা থেকে ১২টা বেজে যাচ্ছে। গভীর রাতে ট্রেন থেকে নামা যাত্রীরা বিশেষ করে নারীরা নিরাপত্তহীনতায় ভোগেন।
গত এক সপ্তাহের সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘কালনী এক্সপ্রেস’ একদিনও নির্ধারিত সময়ে সিলেটে পৌঁছায়নি। স্টেশন ম্যানেজার মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, সিলেট থেকে ট্রেনটি নির্ধারিত সময়েই ছাড়ে, তবে ঢাকা থেকে ছাড়তে দেরি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

