কয়েক দশকের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে অস্ট্রেলিয়া পশ্চিম জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন শনিবার সিডনিতে এ স্বীকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেরুজালেমে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মেনে নেওয়া হলেও তেল আবিব থেকে এখনই দূতাবাস সরানো হবে না বলেও জানিয়েছেন মরিসন। তিনি এটাও বলেন, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী বানিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনিদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিও অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতি থাকছে। মরিসন বলেন, ‘নেসেট (ইসরাইলি পার্লামেন্ট) এবং অন্যান্য অনেক সরকারি স্থাপনা থাকায় পশ্চিম জেরুজালেমকে অস্ট্রেলিয়া এখন ইসরাইলের রাজধানী হিসেবেই বিবেচনা করে। বাস্তব পরিস্থিতি ও চূড়ান্ত স্থিতিশীলতা আসার পর সেখানেই আমরা দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছি।’
ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি অর্জিত হওয়ার পরই অস্ট্রেলিয়া তার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে আনবে। মরিসন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিব। এ মধ্যবর্তী সময়ে জেরুজালেমে অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় থাকবে।’
চলতি বছরের অক্টোবরে মরিসন জানিয়েছিলেন, জেরুজালেমে অস্ট্রেলীয় দূতাবাস স্থানান্তরে তার সম্মতি রয়েছে। এর আগে মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তর করেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ইসরাইল খুশি হলেও ফিলিস্তিন, আরব বিশ্ব ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে গুয়াতেমালা ও প্যারাগুয়ে তাদের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর প্যারাগুয়ে অবশ্য ওই সিদ্ধান্তটি বাতিল করে তেল আবিবেই দূতাবাস বহাল থাকছে বলে জানায়।