ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার চাহিদার বিপরীতে যোগান কম থাকা, উত্পাদন বিপর্যয় ইত্যাদি নানা কারণে প্রায়শই আমাদের দেশে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে দেখা যায়। ফলে জনসাধারণের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ যা লাঘবে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়! প্রাকৃতিক নানা কারণে এ জাতীয় মূল্যবৃদ্ধি কষ্ট হলেও মেনে নিতে হয় দিন শেষে পরিস্থিতির বিবেচনায়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হয় তখন, যখন দেশের কতিপয় ব্যবসায়ী অসদুপায়ে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কুটিল প্রতারণার আশ্রয় নেয়। যেমন একই ব্রান্ডের একটি পণ্য (ধরা যাক ৫০০ মিলি পানির বোতল) বাইরের বাজারে ১৫ টাকা, কিন্তু বিশেষ বিশেষ রেস্টুরেন্ট বা বিশেষ দোকানে ‘স্পেশালি প্যাকেট ফর...’ লিখে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে মুদ্রণ করে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে অনভ্যস্ত ক্রেতাদের সহজেই ঠকিয়ে সমমানের পণ্যের বিপরীতে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে তিন থেকে পাঁচ গুণ টাকা। যেহেতু গায়ে মূল্য মুদ্রিত থাকে তাই চাইলেই তর্ক বা প্রতিবাদ করা যায় না। মূল্য বৃদ্ধির এই হটকারিতা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ঠকিয়ে যাচ্ছে ভোক্তাদের। যেহেতু মূল্য মুদ্রিত থাকে সেহেতু ভোক্তা অধিদফতরে অভিযোগ করারও আগ্রহ পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন! চাইলেই নিজেদের ইচ্ছেমতো মূল্য বাড়িয়ে জনসাধারণের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই অভিনব কৌশলের রাশ এখনই টেনে না ধরলে ব্যবসার আড়ালে প্রচ্ছন্ন চাঁদাবাজি চলতেই থাকবে। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
রাকিবুল হাসান রাসেল
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা