দিনাজপুরের ছয়টি আসনেই লড়াই হবে দ্বিমুখী

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থী আর কর্মী-সমর্থকদের তত্পরতা। যে কোনো মূল্যে ভোটারদের মন জয় করতে তারা ছুটছেন দ্বারে দ্বারে। করছেন জয়ের হিসেব-নিকাশ। অন্যদিকে ভোটাররা হিসেব কষছেন মাঠে কার কি অবস্থা। কে পড়তে পারে শেষ বিজয়ের মালা। প্রার্থীরা তাদের নিজেদের নিয়ে হিসেব কষলেও ভোটাররা হিসেব কষছেন প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীকে নিয়ে। অতীত আর ভবিষ্যত্ নিয়ে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের অঙ্ক কষছেন সাধারণ ভোটাররা। তবে ছয়টি আসনেই ভোটের লড়াই হবে দ্বিমুখী।

ভারত সীমান্তবেষ্টিত দিনাজপুর জেলা ছয়টি নির্বাচনী আসন নিয়ে গঠিত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৩টি উপজেলা নিয়ে এই ছয়টি আসনে বেশিরভাগই ছিলো আওয়ামী লীগের দখলে। এবার দিনাজপুর জেলার এই ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৪ জন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন চারজন। তারা হলেন-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী (দিনাজপুর-৪ আসন), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান (দিনাজপুর-৫ আসন), জাতীয় সংসদের হু্ইপ ইকবালুর রহিম (দিনাজপুর-৩ আসন) এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২ আসন)।

ছয়টি আসনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির চারজন প্রার্থী। আর দুটি আসনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের দুই প্রার্থী। 

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ ও কাহারোল) আসনে লড়ছেন আওয়ামী লীগের মনোরঞ্জন শীল গোপাল, বিএনপির (প্রকৃতপক্ষে জামায়াতের) মোহাম্মদ হানিফ, জাতীয় পার্টির শাহীনুর ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সৈয়দ মনজুর উল করিম ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির আরিফুল ইসলাম। এবার আওয়ামী লীগের সাথে ধানের শীষের প্রার্থীর লড়াই হবে এই আসনে।

দিনাজপুর-২ (বিরল ও বোঁচাগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, জাতীয় পার্টির জুলফিকার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এরশাদ হোসেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-৩ আসনটিতে ছয়জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের ইকবালুর রহিম, বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাইরুজ্জামান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সৈয়দ মাহমুদ উল করিম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বদিউজ্জামান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের আশরাফুল ইসলাম।

দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর ও খানসামা) আসনে লড়ছেন সাতজন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বিএনপির আখতারুজ্জামান মিয়া, জাতীয় পার্টির মোনাজাত চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মোজাফফর হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রেয়াজুল ইসলাম ও বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাজেদুল আলম চৌধুরী। এই আসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে বিএনপির তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। শেষ পর্যন্ত দ্বিমুখী লড়াই হবে।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী) আসনের পাঁচ প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির এজেডএম রেজওয়ানুল হক, জাতীয় পার্টির সোলায়মান সামি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতিউর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শফিকুল ইসলাম ও পিপলস পার্টির শওকত আলী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান টানা পাঁচবার এই আসন থেকে জয়লাভ করায় এবারও তারই জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।

দিনাজপুরের চারটি উপজেলা যথাক্রমে বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট নিয়ে দিনাজপুর-৬ আসন গঠিত। এই আসনে এবার চারজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন:আওয়ামী লীগের শিবলী সাদিক, বিএনপির আনোয়ারুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলাম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুর আলম সিদ্দিক ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শাহিদা খাতুন। ইতিপূর্বে এই আসনে জামায়াত জয়লাভ করেছে দুইবার।