রফিকুল ইসলাম রবি
স্বল্প, নিম্ন, মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠী, শহরের বস্তিবাসী ও দুস্থ জনগণের জন্য বাসস্থান তৈরি করতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮টি জেলায় ২৬টি গৃহনির্মাণ, প্লট বরাদ্দ ও ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সরকারের এ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছেন না তারা। রাজধানীতে আবাসিক ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক স্পেসসহ রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বেশকিছু প্লট প্রকল্পের কাজের জন্য বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ের পরও কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারছে না জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। অথচ কাজের ধীরগতির কারণে সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা।
জানা গেছে, গত ৫-৬ মাস ধরে অবৈধ আবাসন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সংস্থাটির অভিযান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। আবার সাধারণ মানুষের জামানতের টাকা নিলেও কয়েকটি প্রকল্পে লটারি পর্যন্ত করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে গত ৬ মাসে এডিপি রিভিউতে সংস্থাটির অবস্থান ৬ নম্বরে নেমে এসেছে। যেখানে গত ৬ মাস আগেও ছিল ১ নম্বরে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না পারার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে, নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ না করা, জামানতের অর্থ নিয়েও নির্ধারিত সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যে লটারি না করা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, রাজধানী মিরপুর স্বপ্ন নগর-১ প্রকল্পটি চলতি বছরের জুন মাসে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলে তা হয়নি। পরে তা বাড়িয়ে ডিসেম্বর করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এখন তা আগামী জুনে শেষ করার কথা রয়েছে। তাও করা যাবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। একই অবস্থা স্বপ্ন নগর-২’তে ১ হাজার ৫৬০ ফ্ল্যাট প্রকল্পেও। এখানে ৭৫০ ফ্ল্যাট ও ১ হাজার ৫০০ পার্কিং স্পেসের চাহিদা থাকলেও তা এখনো লটারি করতে পারেনি। মিরপুরের ভাষানটেক এলাকার ‘দামাল কোট’ নামের ফ্ল্যাট প্রকল্পটিও ঝুলে গেছে। দুই বছর ধরে আবেদনকারীরা অপেক্ষায় থাকলেও এখনো কাজ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। দুই বছর আগে ধানমন্ডিতে ১০টি পরিত্যক্ত প্লটে বহুতল ভবন করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ খাতে সরকারের ৮২ কোটি আর গ্রাহকের ৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও প্রকল্প শুরুই করতে পারেনি। মোহাম্মপুর-লালমাটিয়া ও বছিলা ফ্ল্যাট প্রকল্প কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ। লালমাটিয়া ১৫২ ফ্ল্যাট প্রকল্পটি চলতি জুনে শেষ করার কথা থাকলেও তা ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মোহাম্মদপুর এফ ব্লকের কাজেরও অগ্রগতি নেই। এছাড়া বেসরকারি আবাসন কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে জাগৃকের অনুমোদনের বিধান থাকলেও তা নেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নোয়াখালী, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, কক্সবাজার, বরিশালে প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া রাউজান, মিরসরাই, ফুরতলা, নলছিটি, বাউফল, গলাচিপা ও শ্রীবর্দী উপজেলায়ও সংস্থাটির প্রকল্পের কাজ চলছে। রাজধানীর প্রকল্পগুলো নিয়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের ধীরগতির কারণে নির্বাচনের আগে সেগুলো পূরণ করতে পারেনি তারা। ঢাকা-১৩ আসনের থাকা লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিতেও অনেক প্রকল্প ঝুলে আছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. শহিদ উল্লা খন্দকার বলেন, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন কাজে কিছুটা গতি মন্থর তা অস্বীকার করা যাবে না। আমরা মাসিক উন্নয়ন সমন্বন সভায় এ বিষয়ে কথা বলেছি। তাদের (জাগৃক) কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে আরো যত্নবান হতে বলেছি। জাগৃকের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত ফোনে চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেনি।