সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরে বেশকিছু গার্মেন্টসে শ্রমিকদের কর্মবিরতি সরকার ও কারখানা মালিকদের ভাবিয়ে তুলেছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে শ্রম মন্ত্রণালয়, পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সর্বশেষ গতকালও শ্রম মন্ত্রণালয়ে সব পক্ষের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সরকার ও কারখানা মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিক নেতারা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, মজুরি কিংবা গ্রেডভিত্তিক মজুরি বৃদ্ধির হার নিয়ে শ্রমিকদের কোনো আপত্তি থাকলে নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে কারখানা মালিকরা শ্রমিকদের কর্মবিরতির পেছনে ‘স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে বিকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একটি মহল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে আপনাদের উসকানি দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতত্পরতায় লিপ্ত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিক নেতারাও শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পোশাক শিল্পের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি মহল চক্রান্ত করছে। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজে যোগ না দিতে প্ররোচিত করছে। গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়া ও গাজীপুরে কিছুসংখ্যক পোশাক কারখানায় উত্পাদন বন্ধ ছিল। অনেক কারখানায় টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্রমিকরা কারখানায় এসে কাজে যোগ না দেওয়ায় কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, নতুন মজুরি কাঠামোতে বৈষম্য রয়েছে বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু প্রকাশিত গেজেট অনুসারে কোনো শ্রমিকেরই মজুরি কমবে না। শ্রমিকের পূর্বের ভাতা এক হাজার একশ’ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৮৫০ টাকা করাসহ মজুরি বৃদ্ধির বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়।
আগামীকাল সোমবার থেকে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে বেতন পাওয়ার পর যদি কোনো শ্রমিক ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকে, তা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরুন। সরকার ঘোষিত নতুন মজুরি পাওয়ার আগে কোনো আন্দোলন করার যৌক্তিকতা নেই। এ সময় উসকানি দিয়ে যারা শ্রমিকদের অশান্ত করছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতা ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, নির্বাচনের আগে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। কারখানায় মজুরি নিয়ে মতবিরোধ থাকলে গুজবে কান না দিয়ে, কারখানায় উত্পাদন বন্ধ না করে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির ও শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার, সিরাজুল ইসলাম রনি, তৌহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম সুজন, রানী খান ছাড়াও শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।