লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত ভোলার কয়েক হাজার গরু

ভোলায় হাজার হাজার গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত গরুর সংখ্যা বাড়ছে। রোগের ওষুধ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন জেলার ছোট-বড় গরু খামারি। জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে এ রোগের ভ্যাকসিন নেই তবে ভ্যাকসিন তৈরির নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    

ভোলা সদরের চরসামাইয়া এলাকার গরু খামারি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, প্রথমে গরুর চামড়ার উপরিভাগে টিউমারের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। পরে তা পক্সের (বসন্ত) মতো গুটি গুটি হয়ে গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছে। দুই-এক দিনের মধ্যে তা বড় বড় হয়ে ফেটে গিয়ে ঘা এর সৃষ্টি করছে প্রাণীর সারা শরীরে ।  

ভোলা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিতকুমার মন্ডল জানান, এটি একটি ভাইরাল রোগ। আক্রান্ত গরু প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং খাবারে রুচি কমে যায়। জ্বরের সময় মুখ ও নাক দিয়ে লালা বের হয়। পা ফুলে যায়। সামনের দুই পায়ের মাঝ স্থান পানি জমে যায়। শরীরের বিভিন্ন জায়গা চামড়া পিন্ড আকৃতি ধারণ করে, লোম উঠে যায় এবং ক্ষত সৃষ্টি হয়। 

আরও পড়ুন: কাশ্মীর ইস্যুতে আর্থিক ক্ষতি ১১ হাজার কোটি টাকা!

ইন্দ্রজিত জানান, রোগটি ১৯২৯ সালে প্রথম জাম্বিয়াতে দেখা যায়। চলতি বছর এশিয়া মহাদেশের চীন ও ভারতের কিছু কিছু অঞ্চলে দেখা গেছে। লাম্পি স্কিন রোগের প্রধান বাহক হচ্ছে এডিস মশা, মাছি ও ষাঁড়ের সিমেন। গরুর লালা থেকেও এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত গাভী থেকে বাছুর দুধ পান করলে সেই বাছুরও আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া আক্রান্ত গরুকে ইনজেকশন দেওয়ায় ব্যবহৃত সিরিঞ্জের মাধ্যমে রোগটি ছড়াতে পারে। খামারে কাজ করা মানুষের পোশাকের মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে। 

প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, আক্রান্ত গরুকে মশারি দিয়ে রাখতে হবে এবং বেশি পরিমাণে পানি ও ভাতের মার খাওয়াতে হবে। 

ভোলা প্রাণীসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, ভোলা জেলায় গরুর মোট সংখ্যা পাঁচ লাখ ৯৫ হাজার ২০টি। এ পর্যন্ত প্রাণী সম্পদ বিভাগ জেলায় লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত ৩’শ ১টি গরুর চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ জেলার অর্ধেক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। 

ভোলা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ইন্দজিতকুমার মন্ডল জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে লাইভস্টক রিসার্চ ইনষ্টিটিউটকে এর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসইউ