গোলাপি বলে দিবারাত্রির প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে রীতিমতো রক্তাক্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। ২২ গজে ব্যাট হাতে ভূপাতিত হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে মোহাম্মদ শামির বাউন্সারে কনকাশন তথা মাথায় আঘাত পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার। গতকাল ইডেন টেস্টের প্রথম দিনেই লিটন দাস ও নাঈম হাসানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্রিকেটে এই ধরনের বদলির আইনটা চলতি বছরেই চালু হয়েছে। সেই আইনে লিটনের জায়গায় মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসানের জায়গায় তাইজুল ইসলাম বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন। এক ম্যাচে দুজনের এভাবে ছিটকে পড়ার ঘটনা এই আইন চালুর পর এই প্রথম। এর আগে স্টিভেন স্মিথ, ডিন এলগার, ড্যারেন ব্র্যাভো কনকাশনের মুখে ছিটকে পড়েছিলেন। বলা বাহুল্য, বেশির ভাগ সময়েই বাউন্সারে ব্যাটসম্যানদের নাকাল করার কাজটা করেছেন ভারতীয় পেসার শামি। তীব্র গতির বল, শরীর ভেদী বাউন্সারে ব্যাটসম্যানদের জীবন বিষিয়ে তোলেন তিনি।
একাদশের বাইরে থাকা বাংলাদেশের স্কোয়াডে সুস্থ ক্রিকেটারের সংখ্যা এখন মাত্র একজন, তিনি মুস্তাফিজুর রহমান। মাঠে পানি নিয়ে ছোটা সাইফ হাসান তো আগেই আঙ্গুলের ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছিলেন। গোলাপি বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের শুরুটা তাই চোট জর্জর হয়ে পড়ল।
ইনিংসের ২১তম ওভারের তৃতীয় বলে শামির বাউন্সারে বল লেগেছিল লিটন দাসের হেলমেটে। উইকেটে নেমে সবচেয়ে সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন লিটন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধাক্কা উতরে খেলতে পারেননি। কনকাশন তথা ভারসাম্য হারিয়ে বসা লিটন ২৪ রানেই অবসরে গেছেন।
ইনিংসের ২৩তম ওভারের প্রথম বলটা নাঈমের হেলমেটে লেগেছিল। বোলার সেই শামি। তারপর অবশ্য চারটি চারও মেরেছিলেন এই তরুণ। তার পাঁজরে, শরীরে অনেকবার বল আঘাত করেছিল। ১৯ রান করে আউট হন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষে লিটন-নাঈম দুজনকেই স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে মাথার স্ক্যান করার জন্য।
ইত্তেফাক/এসআর