সাম্প্রতিক দুটি বিশ্বকাপ আসরেই ফাইনালে খেলেছে ফ্রান্স, যার মধ্যে একবার শিরোপাও জিতেছে তারা। এবারও বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দিদিয়ের দেশমের দল। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার পর শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার আরও প্রমাণ দিয়েছে ফরাসিরা।
টুর্নামেন্টজুড়ে ফ্রান্সের ধারাবাহিক ও দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণে প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছেও তারা সমীহের পাত্র। তবে এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল।
শেষ ৩২-এ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইয়ামাল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ফ্রান্সের চেয়ে স্পেনই ভালো দল।
তিনি বলেন, ‘হারানো অসম্ভব এমন কোনো দল নেই। ফ্রান্স আমাদের চেয়ে ভালো দল নয়। ইউরোর পর থেকে ওরা আমাদের হারাতেও পারেনি। এখানে কেউ ফেবারিট নয়, কেউ আমাদের চেয়ে এগিয়েও নেই... যেকোনো টুর্নামেন্টে নামার আগে আমি সব সময় জয়ের কথাই ভাবি। এখন আমার মাথায় একটাই চিন্তা, আমি বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছি।’
২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। পরে তারা নেশন্স লিগেও হারিয়েছে ফ্রান্সকে। এখন তাই তাদের নিয়ে খুব ভাবার কারণও নেই ইয়ামালের। বরং বিশ্বজয়ের স্বপ্নেই তিনি বিভোর।
তা যদি সত্যি হয়, তাহলে কি কাঁদবেন? ইয়ামালের উত্তর, ‘আমি সহজে আবেগপ্রবণ হই না, কান্না করি না। চোট পাওয়ার পর মাকে কাঁদতে দেখে কেঁদেছিলাম। তবে আমরা বিশ্বকাপ জিতলেও আমি কাঁদব না, এটা অসম্ভব।’
ফুটবলারদের অনেককে দেখা যায় ট্যাটু এঁকে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখতে। তবে এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ইয়ামাল, ‘মুসলিম হওয়ায় আমি শরীরে ট্যাটু আঁকাতে পারব না। আর আমি অন্য কারও গায়েও ট্যাটু এঁকে দিতেও যাব না।’
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন থাকলেও এবারের বিশ্বকাপে শুরুটা কিন্তু ভালো হয়নি স্পেনের। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের কাছে হেরে যায় তারা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কি না, তা–ও ছিল অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেনই।
শুরুর ওই খারাপ সময় নিয়ে ইয়ামাল বলেছেন, ‘মানুষ বলছে আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম। তবে আমাদের মূল চাওয়া শান্ত থাকা ও ম্যাচ জেতা। খেলার উন্নতি তো করাই যাবে। হ্যাঁ, আমরা আরও ভালো করতে পারি এবং বর্তমানে যে রকম খেলছি, আমাদের সামর্থ্য তার চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু দিন শেষে আমি শুধু জয়টাই চাই।’

