মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন কামরুজ্জামান ইমন (২৩) নামে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলায় ‘সমর্পণ’ নামক মাদকাসক্ত নিরাময় ও মানসিক চিকিৎসা সহায়তা পুনবার্সন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের কাদেরপুর গ্রামের এজাজুল আজিম রিপনের ছেলে ও রাজশাহী সিটি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।

জানা গেছে, গত ১৯ নভেম্বর দুপুরে কলেজছাত্র ইমন আলীকে মিরপুর বিজিবি সেক্টর এলাকার সমর্পণ মাদকাসক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত কথা বলার কারণে ইমনের মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে পারিবারিক সূত্র জানায়। সেখানে চিকিৎসাধীন ইমনকে ২০ নভেম্বর মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ১৯ নভেম্বর ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের সিসি টিভির ধারণকৃত ফুটেজে ইমনকে পেটানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের দাবি, ওই কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। ইমনের শরীরে বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল বলে তার পারিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমনের মৃত্যু যে স্বাভাবিক নয় এবং তাকে নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজেই তা অনেকটা ধারনা করা গেছে। এছাড়া মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বেশ কয়েকজন ইমনকে হাত-পা ধরে রেখে মারধর করার দৃশ্য সিসি ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে এখনো কোন মামলা করা হয়নি। 

নিহত ইমনের পিতা এজাজুল আজিম রিপন জানান, আমার ছেলে নেশায় আসক্ত ছিল না। তবে সে বিভিন্ন সময় বাড়িতে ঝামেলা করত। মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত কথা বলার কারণে ইমন অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে বলে চিকিৎসক আগেই জানিয়েছিল। ফলে অসুস্থ্যবোধ করলে তাকে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। 

আরও পড়ুন: জঙ্গি রাজীব গান্ধীর ফাঁসির রায়ে স্বজন ও গ্রামবাসীর স্বস্তি প্রকাশ

সমর্পণ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক হাবিব উদ্দিন জানান, নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইমন মারা যান বলে তিনি দাবি করেন। 

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন ফারাজি জানান, ইমনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কিন্তু কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, সিসি ফুটেজ পর্যবেক্ষণসহ পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। 

ইত্তেফাক/এএএম