রাজধানীতে দুটি দোকানের ভেতর থেকে বোমা তৈরির আইইডি-জ্যামার উদ্ধার

রাজধানীর ওয়ারীর একটি দোকানের ভেতর থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ জ্যামার উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সাত্তার মার্কেটের ওই দুটি দোকানের তালা ভেঙে ওয়ারী থানা পুলিশ এসব জব্দ করে। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে শক্তিশালী দুটি আইইডি, গানপাউডার ও আগ্নেয়াস্ত্রের বিভিন্ন অংশ। পরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সেখানে অভিযান চালায়। অবশ্য ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দুটি দোকানের পলাতক মালিককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ধারণা, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বা ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে এসব বিস্ফোরক ব্যবহারের জন্য দোকান দুটির লোহার যন্ত্রাংশের ভেতর মজুদ করা হয়েছিল।

ডিএমপির ওয়ারী জোনের সিনিয়র এসি মো. সামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে বোমা জ্যামার ও বোমা তৈরির সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা গিয়ে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করেন। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। তিনি বলেন, নাদিম মোটরস নামক ওই দোকানটি বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেছাসেবক দলের ওয়ারী থানার সভপতি মিল্লাতের শ্যালক জনির। মিল্লাত গত নির্বাচনে বোমা হামলা চালিয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনেও নাশকতার চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মিল্লাতের নামে অনেক মামলা রয়েছে। তিনি পলাতক আছেন। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অবশ্য উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডের আলামত বিশ্লেষণ করে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, উদ্ধার করা বিস্ফোরকের মধ্যে আইইডি রয়েছে। এই বিস্ফোরক সাধারণত জঙ্গিরা ব্যবহার করে থাকে। এর আগে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) আস্তানা থেকে এই ধরনের আলামত উদ্ধার করা হয়েছিল।

ওই কর্মকর্তা বলেন, শত্রুতা বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক দলের সহিংসতায় সাধারণত আইইডি ব্যবহারের নজির নেই। পেশাদার বোমাবাজরাও সাধারণত তা তৈরি করে না। মূলত জঙ্গি সংগঠনগুলোই এই ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে থাকে। জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকায় এ ধরনের আলামত উদ্ধার চিন্তার বিষয়।