খবরে প্রকাশ, ঢাকার গাবতলী হইতে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে দুই পার্শ্বে অন্তত ৪৩টি স্থায়ী হাটবাজার রহিয়াছে। মহাসড়কের ধার ঘেঁষিয়া অবৈধভাবে গড়িয়া উঠা এইসব হাট-বাজারের কারণে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় যাতায়াতের প্রধান এই সড়কে প্রায়শ লাগিয়া থাকে তীব্র যানজট। কখনো কখনো ঘটে দুর্ঘটনাও। বিশেষ করিয়া ১২টি বাজার এলাকায় সরকারি ছুটির দিনে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। কেননা এই সময় এই মহাসড়কটিতে যানবাহনের যেমন চাপ থাকে, তেমনি ঐসব কাঁচাবাজার ও সাধারণ বাজারে লোক সমাগমও থাকে বেশি। ইহাতে যানবাহন কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলিতে পারে না। যেসব এলাকায় এই সমস্যা বেশি দেখা দেয় সেইগুলি হইল—আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, দেওয়ানবাড়ী, বলিয়ারপুর, উলাইলবাজার, আনন্দপুর, মজিদপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া, ঢাকা ইপিজেড, সাভার বাসস্ট্যান্ড, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, নয়া বাইপাস বাজার প্রভৃতি।
শুধু ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেই নহে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পার্শ্বেও এইভাবে অসংখ্য অবৈধ হাট-বাজার গড়িয়া উঠিয়াছে। আবার সড়ক-মহাসড়কের পাশাপাশি রেললাইন ও সাধারণ রাস্তার পার্শ্বেও অনেক অবৈধ হাট-বাজার লক্ষ্য করা যায়। খোদ রাজধানী শহরের অনেক স্থানে রাস্তার দুই-তৃতীয়াংশ দখল করিয়া কাঁচাবাজার বসিতে দেখা যায়। ইহাতে সৃষ্টি হয় দুঃসহ যানজট। রাস্তার উপর বা পার্শ্বে অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী বাজার গড়িয়া তোলার ক্ষেত্রে একশ্রেণির সুবিধাবাদী লোকের ভূমিকাই যে মুখ্য তাহা সুবিদিত। তাহারা এইসব বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রতিদিন মাসোহারা তোলে। দোকানপ্রতি টাকা উত্তোলনের জন্য জন্য আছে আবার লাইনম্যানও। অথচ ১৯২৫ সালের হাইওয়ে অ্যাক্ট অনুযায়ী মহাসড়কের দুই পার্শ্বে ১০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাইবে না। ইহাছাড়া সাম্প্রতিককালে জাতীয় সংসদে পাসকৃত সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮এর ৩৭ নম্বর (১) ও (২) ধারায় বলা হইয়াছে—‘কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে, মহাসড়কের মালিকানাধীন জায়গায় বা ক্ষেত্রমতে মহাসড়কের ঢাল হইতে উভয় পাশে ১০ মিটারের মধ্যে অবৈধভাবে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা (যেমন— হাটবাজার, দোকান ইত্যাদি) নির্মাণ করিতে পারিবে না।’
বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, শুধু ১০ মিটার নহে, মহাসড়কের ১০০-২০০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রকার হাটবাজার বসিতে দেওয়া অনুচিত। ইতিপূর্বে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের একাধিক সভা হইতে মহাসড়কের দুই পার্শ্বের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা দেওয়া হইলেও তাহা কার্যকর হয় নাই। আসলে এই বিষয়টি আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় কিছুটা স্পর্শকাতরও বটে। ইহার জন্য আমাদের জীবনযাত্রার মানও হয়ত কিছুটা দায়ী। একশ্রেণির মানুষ ঐসব হাট-বাজারে বেচাকেনা করিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বিধায় বাজারগুলি জমজমাট থাকে। আমাদের জীবন মানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হইলে এই সমস্যা আর থাকিবে না। আবার আমাদের বাজার-হাটগুলির প্রত্যাশিত উন্নয়ন হইলে এবং অবৈধ অনেক বাজারকে মূলবাজারের সহিত একীভূত করা গেলে এই সমস্যা একদিন কাটিয়া যাইবে বলিয়া আশা করা যায়। তবে সেই আশায় বসিয়া থাকিলে চলিবে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবশ্যই তত্পর হইতে হইবে। গ্রহণ করিতে হইবে আইনানুগ ব্যবস্থা। এই ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শনের কোনো অবকাশ নাই।