এইচএসসি পরীক্ষার ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা

মো. কবির হোসেন (সুজন),সিনিয়র প্রভাষক

ব্যবস্থাপনা বিভাগ,

নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা।

                                  

প্রিয় এইচএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ, অনুশীলন বিভাগে তোমাদের স্বাগতম। তোমাদের সুবিধার্থে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের ২য় পত্র  হতে একটি উদ্দীপক এবং উদ্দীপকের আলোকে এর উত্তর প্রদান করা হলো। আশাকরি তা তোমাদের সংগ্রহে থাকবে।

 

উদ্দীপক: একজন ভালো কৃষক যেমন ভূমি, শ্রম, মূলধন, ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র, সার, বীজ ইত্যাদির কার্যকর ব্যবহার করে অধিক ফসল ফলিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করেন। ঠিত তেমনি মানুষ, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, অর্থ, বাজার ও পদ্ধতি ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমেও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়। এই সব উপকরণ আলাদা আলাদাভাবে থাকাই উত্পাদনের জন্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সুষুম সমন্বয়।

ক) ব্যবস্থাপনা চক্র কী?

খ) ব্যবস্থাপনার সার্বজনীনতা বলতে কি বুঝায়?

গ) উপরের উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ হতে কোন উপকরণের কথা বলা হয়েছে? আলোচনা কর।

ঘ) উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার কোন কোন গুরুত্বটি তুমি উপলব্দি করবে? তোমার মতামত দাও।

উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তরঃ পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মীসংস্থান, প্রেষণা, যোগাযোগ, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কার্যসমূহ চক্রাকারে আবর্তিত হওয়াকে ব্যবস্থাপনা চক্র বলা হয়।

উদ্দীপকে খ নং প্রশ্নের উত্তর :  পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র হতে শুরু করে সর্ব জায়গায় ব্যবস্থাপনার অবস্থানকে ব্যবস্থাপনার সার্বজনীনতা বলা হয়।

প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন, ব্যবস্থাপনা একটি সার্বজনীন বিষয়। কারণ সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার আবশ্যকতা বা ব্যবস্থাপনা জ্ঞানের প্রয়োগযোগ্যতা রয়েছে। বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ব্যবস্থাপনার আবশ্যকতা যেমন দৃশ্যমান তেমনি ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও তার অপরিহার্যতা রয়েছে। তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্র হতে শুরু করে ছোট একটি পরিবার পরিচালনায় সকল কিছু ম্যানেজ করে কার্য পরিচালনা করতে হয়। অর্থাত্ সর্ব জায়গায় ব্যবস্থাপনার উপস্থিতি রয়েছে।

উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর: উপরের উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ হতে ব্যবস্থাপনার উপকরণের কথা বলা হয়েছে। ব্যবস্থাপনার কার্য সম্পাদনে প্রয়োজন পড়ে এমন সব বস্তু বা সম্পদকেই ব্যবস্থাপনার উপকরণ বলা হয়।  এটি হলো উপকরণ সমূহের কার্যকর ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি প্রক্রিয়া।

মানুষ, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, অর্থ, বাজার ও পদ্ধতি ইত্যাদি উপকরণ সমূহকে একত্রে ব্যবস্থাপনার উপকরণ বলা হয়। এর মধ্যে মানবীয় ও বস্তুগত উপকরণ রয়েছে। মানুষ উত্পাদনের মানবীয় উপকরণ। কারণ এই মানব সম্পদের কার্যকর ব্যবহার হলে প্রতিষ্ঠানে আপনা আপনি বস্তুগত উপকরণের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হয়। এই মানবীয় উপকরণকে কাজে লাগাতে হলে বস্তুগত উপকরণ মালামাল, অর্থ, বাজার প্রয়োজন পড়ে। পদ্ধতি হলো কার্য সম্পাদনের এক একটি আলাদা আলাদা প্রচেষ্টা। তবে এইসব গুলোর সমন্বয়ে ব্যবস্থাপনা তার কার্য সচল রাখে ফলে উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর : উদ্দীপকে উপকরণাদির সৃষ্ট ব্যবহার ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

উত্পাদনের কাজে লাগে এমন প্রয়োজনীয় বস্তুকে উত্পাদনের উপকরণ বলা হয় আর এই সব উপকরণের যথাযথ ব্যবহারকেই উপকরণাদির সুষ্ঠু ব্যবহার বলা হয়। কম খরচে বেশি কাজের সামর্থকে দক্ষতা বলা হয় আর এর মাধ্যমে উন্নয়ন নিশ্চিত করাকে দক্ষতা বৃদ্ধি বলা হয়।

উপরের উদ্দীপকে উত্পাদনের উপকরণের মাধ্যমে যেমন উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয় তেমনি ব্যবস্থাপনার উপকরণের মাধ্যমেও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়। তার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু ব্যবহার আর সুষ্ঠু ব্যবসায়ের ফলে যেমনি কার্যের সাশ্রয় হয় ফলে উত্পাদন বেশি হয়। উপরের উদ্দীপকে দুই ধরণের উপকরণের ব্যবহারের ফলে উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয় অর্থাত্ উপকরণের সুষ্ঠু সমন্বয় হয়েছে ফলে দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে, মানে উত্পাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপকরণের সুষ্টু সমন্বয়ের মাধ্যমে কম খরচে বেশি পরিমাণ উত্পাদন সম্ভব। তখনই দক্ষতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। উপরের উদ্দীপকে ব্যবস্থাপনার দুটি গুরুত্বের কার্যকর ব্যবহারের ফলে ভালো উত্পাদন সম্ভব। তাই উত্পাদন বৃদ্ধিতে ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব রয়েছে।