সামনে কিছুদিন বাংলাদেশকে বিপুল পরিমাণে শর্ট বল সামলাতে হবে। নিউজিল্যান্ড সফর ও বিশ্বকাপ জুড়ে উইকেটের চরিত্রের কারণেই বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে শর্ট বল। কিন্তু সেই উইকেটে যাওয়ার আগে নিজেদের দেশেই গতকাল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ঘায়েল হয়ে গেলেন শর্ট বলে।
গুণে গুণে পাঁচ জন ব্যাটসম্যান শর্ট বলে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরলেন। তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস ও সাইফউদ্দিন আউট হলেন শর্ট বলে। এমনকি সাকিব আল হাসানও এই অস্ত্রে ধরা পড়লেন। সাকিব অবশ্য আউট হওয়ার আগে একা একা বুক চিতিয়ে লড়াই করে ফিরলেন। তারপরও ৫ ব্যাটসম্যানের এমনভাবে আউট হওয়াটা একটা দুশ্চিন্তার ব্যাপার হতে পারে বৈকী!
অবশ্য বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটের ব্যাটিং উপদেষ্টা নীল ম্যাকেঞ্জি বলছেন, এটা ঠিক দুশ্চিন্তার ব্যাপার নয়। কারণ, শর্ট বলে কেউ পরাজিত হয়ে আউট হননি। সবাই অতি আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে শর্ট বলে ক্যাচ দিয়েছেন। তাই এটাকে দুশ্চিন্তার কারণ মনে করছেন না ম্যাকেঞ্জি, ‘আমার মনে হয়, আমি তখনই দুশ্চিন্তিত হবো, যখন দেখবো যে, ব্যাটসম্যানদের গ্লাভসে বল লাগছে, নাকের কাছ থেকে বল চলে যাচ্ছে, তারা শর্ট বলের গতিতে পিছিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এদিন তা ঘটেনি। যা ঘটেছে, সেটা স্রেফ অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে। লিটন ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করা একজনকে ডাউন দ্য উইকেট এসে মারতে গেলো। এটা করতে অনেক বেশি সাহস লাগে। এরপর তামিম। সেও ভালো ফর্মে আছে। কিন্তু একই কাজ করেছে।’
তবে ব্যাটসম্যানদের এই যাওয়া আসার মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে জ্বলেছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান উইকেটে এসেই মারাত্মক আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন। প্রতিটা বলে বাউন্ডারির চেষ্টা করতে গিয়ে লিটন, সৌম্য ও তামিম ফিরে এলেন। এরপর রান আউট হয়ে ফিরলেন মুশফিক। এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন সাকিব।
মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুলের সাথে ছোট ছোট দুটো জুটিও করেছিলেন সাকিব। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ ১২ রান করে ও আরিফুল ১৭ রান করে ফিরে আসেন। এরপর মাত্র ১ রান করে ফেরেন সাইফউদ্দিনও। শেষ পর্যন্ত অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন সাকিব। তিনি কোট্রেলের শর্ট বলে বোলারের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন। তার আগে সাকিব বাংলাদেশের একমাত্র পঞ্চাশ পার করা ইনিংসটা খেলে এসেছেন।
শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬১ রান করে তবে আউট হন সাকিব। বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ১৩০ রানের লক্ষ্যকে একেবারেই মামুলি বানিয়ে সহজ জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভয়ানক ফর্মে থাকা শাই হোপ গতকালও করেছেন তাণ্ডব। মাত্র ২৩ বলে ৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৫৫ রানের ইনিংস খেলেছেন হোপ। অন্যদিকে বোলিং অলরাউন্ডার কেমু পল ১৪ বলে ১টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৮ রানের ইনিংস খেলেন।
বোঝাই গেছে উইকেটে ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব বিপদের কিছু ছিলো না। কিন্তু সেই উইকেটেই শর্ট বলকে আতঙ্ক বানিয়ে ফেললেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।