বিতর্কিত দক্ষিণ কাশ্মির অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সোমবার বিকালে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। এদিকে শনিবার সাত স্থানীয় নাগরিকদের হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করায় পুলিশ বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অস্থিরতা বেড়েই চলছে। এ অঞ্চল নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে দ্বন্দ্ব বজায় রয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় গত শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিন জঙ্গির নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে স্থানীয় সাত নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। গত শনিবার দক্ষিণ কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার শ্রীনু গ্রামে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয় তিন জঙ্গি। কিন্তু তারপরই সাধারণ নাগরিকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন নিরাপত্তা বাহিনীর সেনারা। শূন্যে গুলি চালিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত গুলি চালাতে বাধ্য হয় নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাণ হারায় দুইজন নাবালকসহ সাত স্থানীয় সাধারণ নাগরিক।
বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন মালিক এবং মিরওয়েজ উমর ফারুক কাশ্মিরের প্রধান শহর শ্রীনগরে একটি সেনা দপ্তর দিয়ে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছে। এছাড়া আরেক নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি গৃহবন্দি আছেন বলে পুলিশ জানায়। পরিস্থিতি শান্ত হলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যেই এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার জম্মু ও কাশ্মির জুড়ে বনেধর ডাক দেয় জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্স লিডারশিপ (জেআরএল) সহ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো। বন্ধ ঘিরে উপত্যকায় কোনো ধরনের হিংসা পরিস্থিতি রুখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগাম সতর্কতা হিসেবে পুলওয়ামা এবং শ্রীনগর জেলার বিভিন্ন অংশে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলা এবং শ্রীনগরের নওহাটা, খানিয়ার, রায়নাওয়ারি, সাফাকদল, এম আর গুঞ্জ এবং মাইসুমা থানার অন্তর্গত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।