মির্জাপুরে শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে ময়লার ভাগাড়

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরসহ আশপাশ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধের মধ্যে চলছে মাসব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন। বৃহস্পতিবার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেছে চারপাশে আবর্জনার ভাগাড়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন এমপি এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মির্জাপুর উপজেলা সদরের কলেজ রোড ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তর পাশে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ হয়।

এলাকার যুব সমাজকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখতে এবং ক্রীড়াঙ্গনকে জাগিয়ে তুলতে ২০১৮ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই স্টেডিয়ামের মাটি ভরাট করে উঁচু করা হয়। 

অভিযোগ উঠেছে, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে বিপুল অংকের টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম খেলার উপযোগী করা হলেও এর চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। স্টেডিয়ামের চারপাশই এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্টেডিয়ামের আশপাশের বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা এবং শহরের দোকান পাটের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরে।

খেলোয়াড়দের মধ্যে নাজমুল ইসলাম, রকি আহমেদ, স্বপন মিয়াসহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, চারপাশের ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে স্টেডিয়ামে সুষ্ঠু পরিবেশে খেলাধুলা করা যাচ্ছে না। ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং পৌর কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করা হলেও কোন কাজে আসছে না বলে তারা অভিযোগ করেন। 

শুধু শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামই নয়, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে শহরের ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পুরাতন রোডের বাইমহাটি, মির্জাপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন, হাসপাতাল রোড, কাঁচা বাজারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর সামনে। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলায় পচা দুর্গন্ধে পথচারীসহ স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ শিশুদের মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে ময়লা ও পচা দুর্গন্ধের মধ্যে চলছে বিজয় মেলার আয়োজন। উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সুধী মহল এ বিজয় মেলার আয়োজন করেছে বলে জানা গেছে। বিজয় মেলা উপলক্ষে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের আশপাশ থেকে ময়লা-আবর্জনা দূর করার জন্য এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মো. আবদুল মালেক বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খেলাধুলার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষে স্থানীয় এমপি, পৌরসভার মেয়র এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত হোসেন সুমন বলেন, ময়লা ফেলার জন্য সরকারিভাবে শহরে কোন নির্দিষ্ট জায়গা নেই। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট জমি বরাদ্দ সাপেক্ষে পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা রাখার ব্যবস্থা করা হবে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ