ভোলা-৩ আসনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পরেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একদিকে নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলায় বিএনপির আলাদা দুটি কমিটি বিরাজমান এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাপুটে প্রার্থী শাওনের একচ্ছত্র মাঠ দখলে রাখার বিষয়টি মেজর হাফিজকে রীতিমতো ভাবিয়ে তুলছে।

এছাড়া গত ৮ বছরে বিএনপির বিরাট একটা অংশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নির্বাচনী মাঠে ময়দানে এখন ২০০১ সাল পরবর্তী ঘটনার জন্য মেজর হাফিজকে করে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই অবস্থায় কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পরা মেজর হাফিজ কীভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার করবেন তা নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসা সত্ত্বেও ভোলা-৩ আসনে এখনও প্রচারণায় নামছে না মেজর হাফিজ। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর গত ১৫ ডিসেম্বর বিএনপি প্রার্থী মেজর হাফিজ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ফেরেন। তার আগমনের দিন নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও এখন আর এসব নেতাকর্মীকে প্রার্থীর বাড়ির ধারে কাছেও দেখা যাচ্ছে না। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর মামলা-হামলার ভয়ে এসব নেতাকর্মী গা-ঢাকা দিয়েছেন।

সুত্র আরো জানায়, লালমোহন ও তজমদ্দিন উপজেলায় বেশ কয়েক বছর ধরে বিএনপি দুটি ধারায় পরিচালিত হয়ে আসছে। যার কারণে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন মেজর হাফিজ। মেজর হাফিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে এলাকায় ফিরলেও বিএনপির হাফিজ বিরোধী অংশটি নির্বাচনের কোনো কর্মকাণ্ডে তার পাশে নেই।

লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা বিভিন্ন কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছি না। পরিস্থিতি বুঝে মাঠে নামবো। দলের বিভাজন সম্পর্কে তিনি বলেন, কেউ যদি ভার হয়ে বসে থাকে তাহলে করার কিছু নেই। তবে সবাইকেই হাফিজ ভাই দলে এক হয়ে কাজ  করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা টিটব চেয়ারম্যান, মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন বাবুল দলীয় মনোনয়ন চান। তাদের বিপরীতে মেজর হাফিজ দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় মনোনয়ন বঞ্চিতরাও এখন মেজর হাফিজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।