ইশতেহারে ঐক্যফ্রন্টের ৩৫ অঙ্গীকার

 

উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতি :যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখা, সরকারি চাকরিতে বয়সের সময়সীমা না রাখা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং পরপর দুই  মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকার সুযোগ বন্ধ করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় সৃষ্টি

শামছুদ্দীন আহমেদ

আগামীতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ শিরোনামে গতকাল সোমবার ঢাকায় হোটেল পূর্বাণীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষিত ইশতেহারে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ৩৫টি অঙ্গীকার ও ১৪ দফা প্রতিশ্রুতি সংবলিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই ইশতেহারের সঙ্গে বর্তমানে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’র অনেক বিষয়ের মিল রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। ইশতেহার পাঠ করেন ঐক্যফ্রন্টে নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঘোষিত ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখা, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে বয়সের সময়সীমা না রাখা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকার সুযোগ বন্ধ করা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় সৃষ্টি, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, প্রাদেশিক ব্যবস্থা প্রবর্তন, বেকার ভাতা চালু ও বর্তমান সরকারের সময়ে দুর্নীতির তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা। ইশতেহারে বলা হয়, আর্থিক খাতে লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংকগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হবে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ছাড়া সরকারি চাকরিতে আর কারও জন্য কোটা থাকবে না।

পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে: ড. কামাল

স্বাগত বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, প্রায় এক যুগ পরে বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রার্থীদের ওপর পেশিশক্তি চালানো ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমি সতর্ক বাণী দিতে চাই- হামলা ও এই ধরনের গ্রেফতার বন্ধ করা না হলে, দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিতে পারে, এটা কারও কাম্য নয়।

তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার ‘দ্রুত’ আরেকটি নির্বাচন দেবে বলে অভিনয় করে পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়েছে। অভিনয়ের জন্য সরকারকে অস্কার পুরস্কার দিতে হয়।

ড. কামাল বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে যেই প্রহসনটি হয়েছিল, সেটি সংবিধান বর্ণিত জনগণের প্রত্যেকের ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিকানা হারিয়েছিল। জনগণ যখন মালিক থাকে না, তখন রাষ্ট্রের মালিক হয়ে পড়ে কায়েমি স্বার্থবাদী ও দেশি-বিদেশি নানা গোষ্ঠী। এর মাশুল দিতে হয়েছে এ দেশের মানুষকে। এটা আপনারাও (সাংবাদিকরা) হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। সীমাহীন দুর্নীতি চলছে। দুর্নীতির কোনো একটা নতুন শব্দ আবিষ্কার করতে হবে। এখন দুর্নীতি লক্ষ-কোটিতে নয়, হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়। এই টাকা আয় করে কারা, আর নিয়ে যাচ্ছে কারা!

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট বিশ্বাস করে, ৩০ ডিসেম্বর মানুষ দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে।  ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করে ভোটের অনিয়ম রুখবে এবং ভোট শেষ হওয়ার পর নিজেদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া দেখে বাসায় ফিরবে। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এক গণ-অভ্যুত্থানের দিন হবে ৩০ ডিসেম্বর।

এ পর্যন্ত ১৯০০ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, এটা জাতীয় লজ্জার বিষয়। পুলিশের প্রতি অনুরোধ করবো- গ্রেফতার বন্ধ করুন, বেআইনি হুকুম মানবেন না, বেআইনি হুকুম মানা অপরাধ। তিনি আরও বলেন, এটা জনগণের ইশতেহার। জনগণের কল্যাণ, জনমতের ভিত্তিতে এটা তৈরি করা হয়েছে।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ ইশতেহারে মানুষের মৌলিক দাবি-দাওয়া উঠে এসেছে। এটা একটা বৈপ্লবিক ইশতেহার বলে আমরা মনে করি।

ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতিসমূহ উল্লেখ করার আগে মান্না বলেন, নির্বাচনে জিতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের কল্যাণে সরকার পরিচালনা করবে। এই পরিচালনার মূলনীতি হবে ঐকমত্য ও সকলের অন্তর্ভুক্তি এবং যেকোনোরকম প্রতিহিংসা থেকে মুক্ত থাকা।

ইশতেহারে ৩৫ দফায় যা আছে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে একদলীয় শাসন যাতে ফিরে না আসে সেই ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইশতেহারে। বর্তমান কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করা হবে না বলেও অঙ্গীকার করা হয়। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি দমন ও সুশাসন, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনমানের উন্নয়ন, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি, প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্র নীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্ট কী কী করতে চায়-সেসব বিষয়েও বিভিন্ন অঙ্গীকারের কথা এসেছে ইশতেহারে।

‘সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন’ কমিশন: মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, ঘুষ বাণিজ্য ও বিচারবর্হিভূত হত্যার সমাধানে সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন কমিশন গঠন করা হবে। খোলা মনে আলোচনা করে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অতীতের হয়রানিমূলক মামলার সুরাহা করা হবে।

নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা: বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম বন্ধ করবে ঐক্যফ্রন্ট। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করবে। রিমান্ডের নামে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন, সাদা পোশাকে গ্রেফতার বন্ধ করবে। মিথ্যা মামলায় অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেবে। মিথ্যা মামলায় সহায়তাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। যৌন হয়রানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখাবে, যৌতুক পুরোপুরি বন্ধ করা হবে।

সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়: ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের ওপর যে কোনো হামলার বিচার হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখবে ঐক্যফ্রন্ট।

ক্ষমতার ভারসাম্য: সংসদে একটি উচ্চ কক্ষ সৃষ্টি করা হবে। সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে (ফ্লোর ক্রসিং) পরিবর্তন আনা হবে। সংসদের ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত করার সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রাদেশিক সরকার প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা পরীক্ষার জন্য একটি সর্বদলীয় জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে।

বিচারপতি নিয়োগ কমিশন: বিচারপতিসহ সব নিয়োগের ক্ষেত্রে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে স্বাধীন কমিশন গঠন করবে ঐক্যফ্রন্ট। সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে, এর বদলে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম বিশ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হবে। দুই মেয়াদের পর আর সংরক্ষিত আসন না রাখার কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট।

কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর করা হবে। ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে এবং সংবিধান নির্দেশিত সব দায়িত্ব পালনে ন্যায়পালকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে। ৩০ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভাতা চালু করতে একটি কমিশন গঠন করা হবে বলেও অঙ্গীকার করে ঐক্যফ্রন্ট। পিএসসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল, ডাকসুসহ ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রশাসনের হাতে দেওয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি চালু হবে বলেও ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

ইশতেহারের ৩৫ দফার মধ্যে ৩২ দফায় ‘মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধা’ অংশে বলা হয়, ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় গেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম চলমান থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার চেতনা নিয়ে মানুষকে সচেতন করে তোলা হবে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

ইশতেহারে আরও বলা হয়, মতপ্রকাশের অবারিত স্বাধীনতা থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশে সরকারি বিধি-নিষেধ থাকবে না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বাজেটের ৩০ শতাংশ স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এছাড়া ঢাকার কাছে উন্নত নাগরিক সুবিধাসহ কয়েকটি শহর গড়ে তোলা হবে।

দুর্নীতির তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতারে সরকারের অনুমতির বিধান বাতিল করা হবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে ঐক্যফ্রন্টের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা, সব জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, সিসিইউ, আইসিইউ, এনআইসিইউ, কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার, ক্যানসারের কেমোথেরাপি সেন্টার গড়ে তুলবে ঐক্যফ্রন্ট। ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ কমানোর কথাও বলেছে তারা। এছাড়া ঐক্যফ্রন্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর সংস্কারসহ খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক ধার্য করা হবে।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, রিমান্ডে নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। রিমান্ডের নামে পুলিশি  হেফাজতে যেকোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করা হবে। সাদা পোশাকে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া মামলাজট কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপের সঙ্গে উচ্চ আদালতের বার্ষিক ছুটি ছয় সপ্তাহে সীমিত করা হবে। বিভাগীয় সদরে স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স করা হবে ৭০ বছর।

কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিল, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। বয়স্কভাতা চালু, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ না করাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নেবে ঐক্যফ্রন্ট। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফার আলোকে সড়ক আইন সংশোধন করা হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বরত সাংবাদিক নিগ্রহের বিচারের কথা বলেছে ঐক্যফ্রন্ট। প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ প্রবাসী কর্মীদের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের মজুরি বোর্ড নিয়মিত করা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে উত্সাহ প্রদানসহ সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ইন্টারনেট ও মোবাইল খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করা হবে। অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, রোহিঙ্গা সমস্যাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করার কথা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ইশতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব,  কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী,  গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়া। এছাড়া বিএনপিপন্থি পেশাজীবী নেতা অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক সদরুল আমিন, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।