শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠছে না বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শিশু গৃহকর্মীদের আইনে স্বীকৃতি দিতে হবে।
গতকাল সোমবার দি ডেইলি স্টার ভবনে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের আয়োজনে এবং টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস ও গ্লোবাল মার্চ এগেইনস্ট চাইল্ড লেবারের সহায়তায় ‘গৃহ শিশুশ্রম এবং মানবাধিকারঃ সুরক্ষা, চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা আগের থেকে অনেক উন্নত হলেও শিশুগৃহ শ্রমিকদের প্রতি মানুষের সাংস্কৃতিক চিন্তা ভাবনার খুব একটা উন্নতি হয়নি। তা ছাড়া স্বল্প বেতনে কাজে রাখার জন্য মেয়ে গৃহকর্মীদের কাজে নেওয়ার ব্যাপারে বেশি অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়। এই পর্যন্ত শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অনেক ভয়ানক ঘটনা আমরা দেখতে পেরেছি। কিন্তু এর মধ্যে বেশির ভাগরই বিচার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এর আগেই মামলার সমঝোতা করা হয়েছে। যার কারণে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ব্যাপারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
শাপলা নীড় বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমোকো উচিয়ামা বলেন, যে সকল মেয়েরা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ সময়ও বিশ্রামের সুযোগ পায় না। এমনকি তারা কাজ করে টাকাও পায় না, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের বেতন দেওয়া হয় তাদের অভিভাবকের কাছে। তিনি আরও বলেন, শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষার জন্য গৃহীত নীতিমালার বাস্তবায়ন না করলে তাদের অবস্থার খুব একটা উন্নতি হবে না।
টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদুল কবির বলেন, সরকার আইএলও কনভেনশন ১৮৯ এখনো অনুমোদন না করলেও শিশু গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। তবে তা বাস্তবায়নের অভাবে খুব একটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে না। সেই সাথে গৃহ শিশুকর্মী শিশুশ্রমের অন্যতম একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত যেখানে বিশাল সংখ্যক শিশু শ্রমে নিয়োজিত আছে এবং প্রায়শই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কাজেই তা বন্ধ করতে হলে এদের আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। যা এখনো করা হয়নি।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান ডঃ খাজা সামসুল হুদা বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতন রোধের জন্য প্রথমে দরকার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। আর এই জন্য প্রয়োজন ব্যাপক আকারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
সংস্থাটির পরিচালক আবদুস সহিদ মাহমুদ বলেন, সরকার শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি কাজের তালিকা তৈরি করলেও গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রম এর চেয়েও বেশি অনিরাপদ। কেননা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণখাতে শিশুদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হলেও গৃহকর্মে চার দেয়ালের ভিতরে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হলে পারতপক্ষে কারও পক্ষেই তা জানা সম্ভব হয় না। তাই গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রমকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।