চাঁদপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা

চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। ধারণা করা হচ্ছে রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যেকার কোন এক সময়ে ওই ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের সরদার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

নিহতরা হলেন— মো. মাইনুদ্দিন (৩০), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৫), কন্যা মিথিলা ফারজানা (৫) ও পুত্র সিয়াম (১)। মাইনুদ্দিন সরদার বাড়ির মিয়াজী সরদারের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে একটি বিস্কুট কারখানায় চাকরি করতেন।

মাইনুদ্দিনের বড় ভাই কালাম সরদার জানান, কয়েকদিন আগে মাইনুদ্দিনের স্ত্রীর কানের দুল হারিয়ে যায়। এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কলহ দেখা দেয়। এরপর মাইনুদ্দিন চট্টগ্রাম তার কর্মস্থলে চলে যায়। ওদিকে ফাতেমাকে তার পিতা এসে মতলব দক্ষিণ উপজেলার করবন্দ গ্রামে পিত্রালয়ে নিয়ে যায়। গত শনিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসে মাইনুদ্দিন। পরে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে   স্ত্রীকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে। শ্বশুর বাড়িতেও স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের গহনা নিয়ে।

গতকাল ভোর ৪টার দিকে মাইনুদ্দিনের আরেক বড় ভাই জসিম উদ্দিন মালয়েশিয়া থেকে তার মা ফিরোজা বেগমকে ফোন দেন। মাকে বলেন, মাইনুদ্দিন ফেসবুকে বলেছে সে মরে যাবে, বলেছে তার কবর ঠিক করার জন্য। একইসঙ্গে সে তার স্ত্রী, সন্তানদের ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড দেয়। জসিম মা ও ভাইকে তার ঘরে গিয়ে দেখার জন্য বলে।

পরে মা ফিরোজা বেগম ও ভাই কালাম সরদার ঘরে গিয়ে দরজা খুলে প্রথমে দুই শিশুকে লেপের নিচে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মাইনুদ্দিনকে ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। তারা চিত্কার করলে বাড়ির লোকজন আসে এবং পরে খোঁজাখুঁজি করে বাড়ির পুকুরে খুঁটির মধ্যে ফাতেমার মরদেহ বাঁধা অবস্থায় দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে ফাতেমাকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর চাঁদপুর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিম উদ্দিন জানান, মরদেহগুলোর সুরতহাল করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কিভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে এ মুহূর্তে তা বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে।